Golden Bangladesh
Eminent People - মশিউর রহমান

Pictureমশিউর রহমান
Nameমশিউর রহমান
DistrictJessore
ThanaNot set
Address
Phone
Mobile
Email
Website
Eminent Typeরাজনীতিবিদ
Life Style

একদিকে নিজের জীবন আর অন্য দিকে মহাপ্রস্থানের পথ - নির্মম মৃত্যু। এর যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হলো তাঁকে। তিনি নির্মম মৃত্যুকেই হাসিমুখে আলিঙ্গন করার দৃঢ় শপথ নিলেন। পাক হানাদার বাহিনী তাঁর সামনে একটি বিবৃতির কাগজ ধরে বলেছিল, এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবেন অথবা মৃত্যুকে বেছে নেবেন। সিদ্ধান্ত নিতে তাঁর সামান্যতম দেরিও হয়নি। হানাদার বাহিনী তাঁকে যে বিবৃতির কাগজটি দিয়েছিল সেটি টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে দিলেন। দেশমাতৃকার জন্য, স্বাধীন বাংলার জন্য হাসিমুখে জীবনকে বিলিয়ে দিয়ে নির্ভয়ে বীরের মতো আলিঙ্গন করেছিলেন মৃত্যুকে। আর এই চিরস্মরণীয় মানুষটি হলেন তত্‍কালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান।
মশিউর রহমানের জন্ম ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে যশোর জেলার চৌগাছা থানার সিংহঝুলী গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন এবং মাতা সৈয়দুন্নেসা। মশিউর রহমানরা ছিলেন তিন ভাই ও তিন বোন। তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। মশিউর রহমানের বাল্যকালে লেখাপড়া শুরু হয় গ্রামেরই প্রাইমারি স্কুলে। পরে তিনি যশোর জেলা স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৬ সালে যশোর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি হন কলকাতার তত্‍কালীন ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ)। সেখান থেকেই ১৯৩৮ সালে আই.এ. এবং ১৯৪০ সালে বি.এ. পাশ করেন। এরপর ১৯৪৪ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইন পেশায় ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন। আইন পড়াকালীন সময়ে তিনি একটি মার্চেন্ট অফিসের ইংরেজ বড় সাহেবের সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করায় ইংরেজিতে দক্ষতা ও নিপুণতা অর্জনে সক্ষম হন।
কলকাতাতে ছাত্র অবস্থাতেই মশিউর রহমান রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৪৫ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। এ সময়ে তাঁর সঙ্গে পরিচয় ঘটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শেও আসেন। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন মশিউর রহমান। দেশ বিভাগের পর তিনি ফিরে আসেন নিজ জেলায় এবং আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৪৬-এ বঙ্গীয় আইন সভার নির্বাচনে যশোর জেলা মুসলিম লীগের নির্বাচনী অভিযান পরিচালনায় তিনিই নেতৃত্ব দেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অগ্রসরমান সম্ভাবনাময় তরুণ নেতা হিসাবে মুসলিম লীগ সরকারের দমনপীড়ন অগ্রাহ্য করে জনগণকে সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বাঙালীরা শিকার হয় শোষণ আর নির্যাতনের। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালী জনগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয় উর্দু ভাষা। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ প্রবলভাবে বিক্ষোভ দেখায়। রাজপথে নামে। 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণার প্রতিবাদে সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'-এর আহ্বানে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ যশোর শহরে একটি ছাত্র ধর্মঘট হয়। সেটি ছিল সিপিআই (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি)-এর ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্ট ফেডারেশন প্রভাবিত, মশিউর রহমান তাতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তখন যশোর শহরের পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ছাত্রসমাজ মিছিল বের করে এবং ছাত্রদের এক বিশাল প্রতিবাদ সভা হয় যশোর ট্রেডিং ব্যাংক ময়দানে (বর্তমানে টিএন্ডটি ময়দান)। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মশিউর রহমান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধাচরণ করায় ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষ অবলম্বন করায় ওইদিন তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। সেসময় যশোরের অনেক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মিথ্যা অজুহাতে রাজনৈতিক গ্রেফতারের প্রতিবাদে তিনি ১৯৪৮ সালে স্থানীয় কারাগারে আমরণ অনশন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ দিন এভাবে অনশন করার পর প্রশাসন তাঁর দাবী মেনে নেয়। তখন কলকাতা থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এসে মশিউর রহমানের অনশন ভাঙ্গান।
কারাগার থেকে বেরুনোর পর তিনি আরো উত্‍সাহ নিয়ে আইন ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতে সময় দেয়া শুরু করেন। তখন পর্যন্ত বাঙালী মধ্যবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গাটি থেকে মুসলিম লীগ একেবারে বিতাড়িত হয়নি। এর মধ্যেই মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসাবেই মশিউর রহমান ১৯৪৯ সালে সর্বকনিষ্ঠ অর্থাত্‍ মাত্র ৩২ বছর বয়সে যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে নিবাচিত হন। কিন্তু বাঙালীর প্রতি মুসলিম লীগ সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি যতই প্রকট হতে থাকে, মশিউর রহমানের সাথেও মুসলিম লীগের দ্বন্দ্ব তত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তত্‍কালীন মুসলিম লীগ সরকারের সঙ্গে মতানৈক্য ঘটায় ১৯৪৯ সালে তিনি যশোর জেলা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
 

তথ্যসুত্র : গুণীজন 

Rationale
UploaderRaihan Ahamed