Golden Bangladesh
Eminent People - লুৎফুর রহমান

Pictureলুৎফুর রহমান
Nameলুৎফুর রহমান
DistrictSylhet
ThanaNot set
Address
Phone
Mobile
Email
Website
Eminent Typeরাজনীতিবিদ
Life Style

লুৎফুর রহমান একজন সমাজকর্মী ওযুক্তরাজ্যেরলন্ডনেরএকজন স্থানীয়রাজনীতিবিদ। তিনি বর্তমানে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস পৌর অঞ্চলের মেয়র।২০১০সালে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন এবং তিনি এই অঞ্চলের ইতিহাসে প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচিত মেয়র। মেয়র নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি একই অঞ্চলের পৌর পরিষদের নির্বাচিত প্রধান হিসেবে দায়িত্ম পালন করছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষা

লুৎফুর রহমানের জন্মবাংলাদেশেরসিলেটঅঞ্চলে। 

 তার খুব কম বয়সে তার পিতা সপরিবারে যুক্তরাজ্যে আসেন ও লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। পরিবারটি লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস অঞ্চলের বাসিন্দা ও লুৎফুর রহমান বো অঞ্চলের ম্যানর প্রাইমারি স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। স্কুল শেষ করার পর তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেন এবং পাশ করে আইন পেশা গ্রহণ করেন। তিনি একজন সলিসিটর এবং পারিবারিক আইন বিষয়ে কাজ করে থাকেন।

কর্মকান্ড

তরুণ বয়সেই লুৎফুর রহমান স্থানীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাজকর্মে মনোনিবেশ করেন।১৯৮৫সালে তিনি স্পাইটালফিল্ডের প্রগ্রেসিভ ইয়ুথ অর্গানাইজেশানের সদস্য ও পরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ম পালন করেন।১৯৯০সালে তিনি কিন স্টুডেন্টস সাপ্লিমেন্টারি স্কুলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও তিনি কমিউনিটি অ্যালায়েন্স ফর পুলিস অ্যাকাউন্টিবিলিটি নামক প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক ও টাওয়ার হ্যামলেটস ল’ সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি বার্টস ও দ্যা লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টের একজন অনির্বাহী পরিচালক।

লুৎফুর রহমান২০০২সালে লন্ডন পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন এবং স্পাইটালফিল্ড-বাংলাটাউন অঞ্চল থেকে লেবার সমর্থিত কাউন্সিলার হিসেবে নির্বাচিত হন। একই আসন থেকে তিনি ২০০৬ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন এবং দ্বিতীয়বারের মত কাউন্সিলার হন।

কাউন্সিলার হওয়ার পাশাপাশি তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস পৌর কর্তৃপক্ষে শিক্ষা বিষয়ক দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ম পালন করেন।২০০৬-এ নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে সংস্কৃতি বিষয়ক দলের নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

২০০৭সালে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টির মনোনয়ন বাছাই শুরু হলে কাউন্সিলার লুৎফুর রহমান তাতে অংশ নেন। কিন্তু স্থানীয় প্রতিনিধিদের ভোটে তিনি সামান্য ব্যবধানে স্থানীয় অপর লেবার নেত্রীরুশনারা আলীরকাছে হেরে যান। পরে রুশনারা আলী ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন ও প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভুদ ব্রিটিশ এমপি নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস রচনা করেন।

অবশ্য পরের বছরই লুৎফুর রহমান বাংলাদেশি বংশোদ্ভুদ ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ হিসেবে নতুন আরেক ইতিহাস রচনা করেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম মেয়র

২০১০সালেরসেপ্টেম্বরেলুৎফুর রহমান স্থানীয় লেবার প্রতিনিধিদের ভোটে টাওয়ার হ্যামলেটসের একই বছরে অনুষ্ঠিতব্য সরাসরি ভোটের মেয়র নির্বাচনের জন্য মনোনীত হন।কিন্তু স্থানীয় লেবারের অন্তর্কোন্দলরত নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিদের অভিযোগ পালটা অভিযোগের ফলে এই মনোনয়নটি বিতর্কিত হয়ে পড়ে এবং একাধিক বার তা বাতিলের উপক্রম হয়। এর প্রেক্ষিতে লুৎফুর রহমান আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালতের রায়ে তার মনোনয়ন বহাল থাকে।লুৎফুর রহমান প্রতিনিধি ভোটে স্থানীয় অপর লেবার প্রার্থীদেরকে পরাজিত করে (লুৎফুর রহমান ৪৩৩ ভোট, জন বিগস ২৫১ ভোট ও হেলাল উদ্দীন আব্বাস ১৫৭ ভোট) মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এবং লন্ডনের আঞ্চলিক লেবার কর্তৃপক্ষের পরিচালক কেন ক্লার্ক লুৎফুরকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

নির্বাচনের আগে, যখন লুৎফুরের প্রার্থীতা চূড়ান্ত হয়েছে, তখন প্রতিনিধি ভোটে পরাজিত ও তৃতীয় স্থানাধিকারী লেবার নেতাহেলাল উদ্দীন আব্বাসলেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কাছে লুৎফুর রহমানকে ইসলামী মৌলবাদের সমর্থক আখ্যা দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয় লুৎফুর রহমান ইউরোপ ভিত্তিক উগ্রবাদী দলইসলামিক ফোরাম অফ ইউরোপেরএকজন সমর্থক। অভিযোগে আরও বলা হয়, লুৎফুর রহমান প্রতিনিধি ভোটে জেতার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিনিধিদের দ্বারা ভোটদানের ব্যবস্থা করেছেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লুৎফুর রহমানের কাছে ব্যাখ্যা গ্রহণের আগেই লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটি (এনইসি) তার মনোনয়ন বাতিল করে। নতুন প্রার্থী হিসেবে তারা অভিযোগকারী ও প্রতিনিধি ভোটে তৃতীয় স্থান অধিকারী হেলাল উদ্দীন আব্বাসকেই মনোনয়ন দেয়।

লেবার পার্টি এনইসির সিদ্ধান্তের পর লুৎফুর প্রথমে ঘোষণা দেন তিনি এর বিরুদ্ধে আবার আদালতে যাবেন।কিন্তু নির্বাচনে আগে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি ঘোষণা দেন, তিনি কোন দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই একা নির্বাচন করবেন।এই ঘোষণা পরপরইজর্জ গ্যালওয়েররেসপেক্ট পার্টিতাকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। তবে লুৎফুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে থাকেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় লুৎফুর নিজেকে একজনসোশাল ডেমোক্র্যাটহিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বলেন, তিনি লেবার প্রার্থীর চেয়ে রাজনৈতিক ভাবে কিছুটাবামেঅবস্থান করেন।তার নির্বাচনী খরচের ও উৎস হিসেবে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সলিসিটর হিসেবে আয় করা অর্থ থেকেই নির্বাচনী ব্যয় বহন করা হচ্ছে।

প্রচারণার এক পর্যায়ে লন্ডন মেয়র নির্বাচন ২০১২-র লেবার দলীয় প্রার্থী কেন লিভিংস্টোন লুৎফুর রহমানকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। তিনি লেবার পার্টি এনইসির সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন,এড মিলিব্যান্ডেরমত একজন নেতা সেসময়ে দলের নেতৃত্ব থাকলে এনইসি কখনওই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারত না। উল্লেখ্য এসব ঘটনার মাত্র দু’দিন পরই লেবার পার্টির নেতার নির্বাচনে মিলিব্যান্ড ভাতৃদ্বয় পরষ্পরের সাথে প্রতিযোগীতা করেন, যেখানে ছোট ভাই এড মিলিব্যান্ড বড় ভাই ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রীডেভিড মিলিব্যান্ডকেপরাজিত করে লেবার নেতা ও প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আবির্ভুত হন।

২৮ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লুৎফুর রহমান প্রদত্ত ভোটের ৫১ শতাংশ ভোট লাভ করে বিপুল বিজয় অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভুত হন লেবার সমর্থিত প্রার্থী হেলাল উদ্দীন আব্বাস, যিনি পান মাত্র ২৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১১,২৫৪ ভোট।নির্বাচনেকনজারভেটিভপ্রার্থী ৫,৩৪৮ ভোট,লিবারাল ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী ৩,৮০০ এবংগ্রিন পার্টিপ্রার্থী ২,৩০০ ভোট পেয়ে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হন

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে লুৎফুর রহমান শুধু টাওয়ার হ্যামলেটসের সরাসরি ভোটের প্রথম মেয়রই নন, তিনি ব্রিটেনের ইতিহাসের প্রথমমুসলিমনির্বাহীমেয়রহিসেবে নির্বাচিত হন।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ম গ্রহণ করার পর লুৎফুর রহমান নির্বাচিত দলীয় কাউন্সিলারদের উদ্দেশ্যে তার ক্যাবিনেটে যোগ দেয়ার আহবান জানান। পাঁচজন লেবার দলীয় কাউন্সিলার এই আহবানে সাড়া দিয়ে লুৎফুরের সাথে যোগ দেন।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, লুৎফুর রহমান স্থানীয় পৌর নেতা হিসেবে তার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষভাবে মেয়রের দায়িত্ম পালন করছিলেন, যিনি মূলত তার প্রতি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে শক্তি সঞ্চয় করেছেন। অবশ্য তার কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে ঐ অঞ্চলটি ‘ইসলামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলেও বলা হয়। তবে মেয়র হিসেবে লুৎফুর রহমান কনজারভেটিভ সরকারের ব্যয়কর্তন প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করার লক্ষ্য নিয়ে স্থানীয় লেবার এমপিদের সাথে একযোগে কাজ করছেন বলেও পর্যবেক্ষণে দেয়া গিয়েছে 

Rationale
UploaderRaihan Ahamed