Golden Bangladesh
Eminent People - মরমী কবি লালন শাহ

Pictureমরমী কবি লালন শাহ
Nameমরমী কবি লালন শাহ
DistrictJhenaidah
ThanaNot set
Address
Phone
Mobile
Email
Website
Eminent Typeকবি
Life Style
মরমী বাউল কবি লালনশাহ বাংলা বাউলকুলের শিরোমনি। তাঁর মনীষার দীপ্তি দেশ ও কালের গন্ডী পেরিয়ে চিরন্তনতায় সতত সঞ্চরণশীল। লোকায়ত বাংলার অন্যান্য অনেক প্রতিভাবানদের মতই তাঁর সঠিক পরিচয় আজও স্থিরীকৃত নয়। তাঁর জম্মস্থান সম্পর্কে পন্ডিত ও গবেষকদের মধ্যে মতভেদ আছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ শিষ্য দুদ্দুশাহের বক্তব্য অনুযায়ী ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে ১১৭৯ সালের ১কার্তিক (১৭৭২, ১৪ অক্টোবর) লালন শাহ জম্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দরীবুল্লাহ দেওয়ান, মাতার নাম আমিনা খাতুন। লালন অতি শৈশবে পিতৃ মাতৃ হারা হয়ে ঐ গ্রামেই তাঁর এক আত্মীয় ইনু কাজীর বাড়িতে আশ্রয় লাভ করেন। এ সময় একদিন গোচারনরত অবস্থায় তিনি ক্লান্ত হয়ে রাস্তার পাশে এক গাছের ছায়ায় যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন ঐ পথে গমনকারী কুলবাড়িয়া গ্রামের সিরাজ সাঁইয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও আলাপ হয়। নিঃসন্তান সিরাজ সাঁই এতিম লালনকে পালক পুত্ররুপে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিলে লালন তাতে সম্মত হন। এভাবেই তিনি তার ভাবী জীবনের পথ প্রদর্শক গুরু সিরাজ সাঁই এর সান্নিধ্যে আসেন। সিরাজ সাঁই জাতিতে মুসলমান এবং পেশায় পাল্কী বাহক বেহারা সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন। তিনি লালনকে লেখাপড়া শেখাবার চেষ্টা করেছিলেন। লালন লেখাপড়া জানতেন না। নিরক্ষর লালন বিষ্ময়কর তত্ত্বজ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। লালনকে সিরাজ সাঁই বাউল মতবাদে দীক্ষা দান করেন। তিনিও গুরুর সাহচর্যে ক্রমে উক্ত তত্ত্বের বোদ্ধা রুপে গড়ে ওঠেন। তাঁর ছাব্বিশ বছর বয়সে ১২০৫ সনে (ইংরেজী ১৭৯৮ সালে) সিরাজ দম্পত্তি পরলোকগমন করেন। অল্প দিনের মধ্যেই তিনি গৃহত্যাগ করে ফকিরী বেশে নবদ্বীপ অভিমুখে গমন করেন। নবদ্বীপ পৌছে তিনি পদ্মাবতী নামে এক বৈষ্ণব বিধবা রমনীর আশ্রয় লাভ করেন যাকে তিনি "মা' বলে ডাকতেন। এখানে তিনি দীর্ঘ সাত বছর অতিবাহিত করেন। লালন নবদ্বীপে যোগী ও তান্ত্রিক সাধকদের ঘনিষ্ট সান্নিধ্যে আসেন। এখানে তিনি বৈষ্ণব শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন, যা তাঁর বাউল মতবাদের উপর প্রভাব ফেলেছিল। ১৮০৫ সালে লালন নবদ্বীপ ত্যাগ করে কাশী, বৃন্দাবন, পুরী প্রভৃতি তীর্থে গমন করেন। এমনিভাবে দশ বছর পরিভ্রমণের পরে তিনি ১৮১৫ সালে নদীয়ায় ফিরে উত্তর বঙ্গের খেঁতুরীর মেলা দেখতে যান। খেঁতুরী থেকে ফেরার পথে তিনি গুটি বসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর পাশে ফেলে রেখে যায়। ঐ গ্রামের তাঁতী সম্প্রদায়ের মলম কারিগর অসুস্থ লালনকে নিজ বাড়িতে নিয়ে মাসাধিককাল সেবাযত্বে সুস্থ করে তোলেন। এ সময়ে তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। মলম কারিগর লালন শাহের সাধনা সম্পর্কে জ্ঞাত হবার পর তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে নিজ বাড়ীর ষোল বিঘা জমি লালনকে উইল করে দেন। সেখানেই গড়ে উঠে লালনের আখড়া। লালন শাহের পত্নীর নাম ছিল বিশখা। তাঁর স্ত্রীর নাম সর্ম্পকেও গবেষকগণ একমত নন। তাঁর কবর লালন শাহের কবরের পাশেই অবস্থিত। ১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর (১২৯৭সালের ১ কার্তিক) শুক্রবার ভোর পাঁচটায় ১১৬ বছর বয়সে লালন শাহ ছেঁউড়িয়ার আখড়ায় দেহত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে নিঃসন্তান লালন তাঁর স্ত্রী, পিয়ারী নামে এক ধর্মকন্যা এবং অসংখ্য শিষ্য ও ভক্ত রেখে যান। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কাজী গোলাম রাব্বানী ও মাতা বিবি শরীফুন্নেসা।কবি শৈলকুপা হাইস্কুল থেকে ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, দৌলতপুর কলেজ থেকে ১৯১৬ সালে আই,এ এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯১৮ সালে বি,এ পাশ করেন। ১৯২০ সালে ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর সরকারী হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষকরুপে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজ থেকে বি,টি পাশ করেন এবং প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হয়ে ১৯৪৬ সালে ফরিদপুর জেলা স্কুলে যোগদান করেন। ১৯৫০ সালে তিনি চাকুরী হতে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকার গঠিত ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব ছিলেন। গীত রচনা, কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদসহ সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর স্বছন্দ পদচারণা ছিল। ১৯১৩ সালে দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে"আদ্রিয়ানোপল উদ্ধার' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রস্থঃ কাব্য-রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাসনাহেনা (১৩৩৪), তারানা-ই-পাকিস্তান(১৯৪৮), বনি-আদম (১৯৫৮); উপন্যাস-রুপের নেশা (১৩২৬), ভাঙ্গাবুক (১৩২৮), একমন এক প্রাণ; জীবনী-বিশ্বনবী (১৯৪২) ; ইসলাম বিষয়ক গ্রমহ-ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), ইসলাম ও কমিউনিজম (২য় সং-১৯৪৯), মরু দুলাল; প্রবন্ধ পুস্তক-আমার চিন্তাধারা (১৯৬২) ; অনুবাদগ্রন্থ-মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪৯), মুরু দুলাল; প্রবন্ধ পুস্তক-আমার চিন্তাধারা (১৯৫৮) শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০), জয়পরাজয়। এছাড়া গীতি সঞ্চয়ন (১৯৬৮) এবং গোলাম মোস্তফা কাব্য গ্রন্থাবলী (১৯৬০)"বিশ্বনবী' গ্রন্থখানি গদ্য সাহিত্য তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান। তাঁর কাব্যের বৈশিষ্ট্য হল সহজ সাবলীল শিল্পসম্মত প্রকাশ ও ছন্দ লালিত্য। তাঁর কাব্যে মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রকাশ পায়। তিনি গীতিকার ও গায়ক ছিলেন। তাঁর নিজের সুরারোপিত বেশ কয়েকটি গানের রেকর্ডও পাওয়া যায়। ১৯৫২ সালে যশোর সাহিত্য সংঘ"কাব্য সুধাকর' ও ১৯৬০ এ পাকিস্তান সরকার"সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি দেয়। ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলার বিখ্যাত গণিতবিদ অধ্যাপক কালীপদ বসু (কে,পি বসু) ১৮৬৫ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহিমা চরণ বসু। কে,পি বসুর শিক্ষা জীবনের সূচনা হয় নিজ গ্রামের পাঠশালায় মেধাবী শিক্ষক নছিমউদ্দিন মন্ডলের কাছে। কে,পি বসুর গণিতমনস্কতা সৃষ্টিতে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি ১৮৯২ সালের দিকে ঢাকা কলেজে গণিত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এবং আমৃত্যু ঐ কলেজের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কে,পি বসু স্বগ্রামের মেঘমালা ঘোষকে বিয়ে করেন। ব্যক্তিগত জীবনে এ মহান গণিতবিদ অত্যন্ত সদালাপী, অমায়িক ও অনাড়ম্বর ছিলেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি পাঠদানের মধ্যেই নিজের কর্মকান্ডকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশনের সুপারিশকৃত ইউরোপীয় সংস্করণ ‘আধুনিক এলজাবরা' বইটির অধ্যয়ন ও অনুশীলনের পথকে সুগম, প্রাঞ্জল ও সহজ করে তোলেন। অসংখ্য নতুন অংক উদ্ভাবন করে এ শাস্ত্রের কলেবর বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ সাধন করেছেন।অধ্যাপনার সাথে সাথে তিনি এ্যালজাবরা ও জ্যামিতি শাস্ত্রের উপর গবেষণা চালিয়ে যান। তাঁর ঐকান্তিক সাধনায়"এলজাবরা মেড ইজি' "মডার্ণ জিওমেট্রি' "ইন্টারমিডিয়েট সলিড জিওমেট্রি' প্রভৃতি গ্রন্থ প্রণীত হয়। প্রকাশনা শিল্পের প্রতিও তার মনোযোগ আকৃষ্ট হয়। তিনি কলকাতায় কে,পি বসু পাবলিশিং কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন। মেধা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের বলে তিনি প্রতিষ্ঠা অর্জন ও প্রভূত অর্থের মালিক হয়েছিলেন। ১৯০৭ সালে তিনি স্ব-গ্রামে প্রাসাদোপম এক ভবন নির্মাণ করেন। তিনি ১৯১৪ সালে পার্নিসাস ম্যালেরিয়া জ্বরে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃতদেহ ঝিনাইদহ এসে পৌঁছালে ঝিনাইদহের সকল অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যায়। শোকাভিভূত হাজার হাজর মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নবগঙ্গা নদীর তীরে উপস্থিতত হয়। ঝিনাইদহ শহরে তার নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র:জেলা তথ্য বাতায়ন
Rationale
UploaderRaihan Ahamed