Golden Bangladesh
Eminent People - বাঘা যতীন

Pictureবাঘা যতীন
Nameবাঘা যতীন
DistrictJhenaidah
ThanaNot set
Address
Phone
Mobile
Email
Website
Eminent Typeব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
Life Style
উপমহাদেশে বৃটিশ দখলদায়িত্ব বিরোধী আন্দোলনে যাঁরা পথিকৃৎ, দেশ মাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যাঁরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে উজ্জীবিত করে গেছেন এ উপমহাদেশের অগণিত মুক্তিকামী মানুষকে, তাদের মধ্যে বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় অন্যতম। তিনি ১৮৮০ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার রিষখালী গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ঊমেশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মাতা শরৎ শশী দেবী। তাঁর পিতা ছিলেন একজন শিক্ষক। পাঁচ বছর বয়সে তাঁর পিতৃ বিয়োগ ঘটে। এরপর তাঁর মা কন্যা বিনোদবালা ও শিশুপুত্র যতীন্দ্রনাথকে নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার কয়া গ্রামে পিত্রালয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি কৃষ্ণনগর এ,ডি,হাইস্কুল থেকে ১৮৯৮ সালে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যতীন্দ্রনাথ কলকাতা সেন্ট্রাল কলেজে এফ,এ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এ সময় তিনি টাইপ রাইটিং ও শর্টহ্যান্ড শেখেন। দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকাকালে পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমন টি কোম্পানীতে ষ্টেনোগ্রাফারের চাকুরী নেন। অতঃপর তিনি এ চাকুরী পরিত্যাগ করে মজফফরপুরের ব্যারিষ্টার ও 'ত্রিহুত কুরিয়ার' পত্রিকার সম্পাদক মিঃ কেনেডীর সচিব হিসেবে চাকুরী গ্রহণ করেন। সেখানে মন না টেকায় তিনি পুনরায় কলকাতায় ফিরে আসেন এবং ইন্দুবালার সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৯০৩ সালে তিনি বাংলা সরকারের চীফ সেক্রেটারী মিঃ হুইলার এর ষ্টেনোগ্রাফার হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার কাজে ব্যস্ত থাকতেন। এভাবেই তিনি খোদ বৃটিশ সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। তিনি বিপ্লবী আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার দায়ে গ্রেফতার হন এবং এক বছরের জন্য সাজা পান এবং তাঁকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। এ সময় তিনি গোপনে বাংলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিপ্লবী সংগঠন এবং ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা-বলরামপুরে বিপ্লবীদের ঘাটি গড়ে তোলেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমেই বাংলা থেকে উত্তর প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখন্ডের ইতঃস্তত বিচ্ছিন্ন সংগঠনগুলো একই কর্মকান্ডের অধীনে আসে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে জার্মান সরকারের কয়েক জাহাজ অস্ত্র উপমহাদেশের বিপ্লবীদের জন্য সংগৃহীত হয়। কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজের অস্ত্র ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ে গেলে ইংরেজ সৈন্যরা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। অবশেষে রাদারফোর্ডের নেতৃত্বে বৃটিশ বাহিনী বুড়ীবালাম নদীর তীরে তাঁদের উপর চড়াও হয়। দীর্ঘ সময় গুলি বিনিময়ের পর তাঁর সঙ্গী চিত্তপ্রিয় রায় চৌধুরী শহীদ হন ও অন্য সবাই বুলেটে জর্জরিত হয়ে বন্দী অবস্থায় বালেশ্বর হাসপাতালে নীত হন। পরের দিন ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ ভোর বেলা গুরুতর আহত যতীন্দ্রনাথ চির নিদ্রায় ঢলে পড়েন। সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ সরকার তাঁর মৃতদেহটিও গুম করে দেয়। তিনি মুক্তিকামী দেশবাসীর স্বপ্নে ও কল্পনায় চিরভাস্কর হয়ে থাকবেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, কন্যা আশালতা ও পুত্র তেজেন্দ্রনাথকে রেখে যান। তাঁর স্মৃতিতে মাদ্রাজে এবং তাঁর জম্মভূমি ঝিনাইদহে রয়েছে বাঘা যতীন সড়ক, বাঘা যতীন ক্লাব প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র:জেলা তথ্য বাতায়ন
Rationale
UploaderRaihan Ahamed