Golden Bangladesh
Eminent People - হাশেম খান,

Pictureহাশেম খান,
Nameহাশেম খান,
DistrictChandpur
ThanaNot set
Address
Phone
Mobile
Email
Website
Eminent Typeপার্ফরমিং আর্ট
Life Style

"প্রিয় সুলেমান নানা কারণে হঠাৎ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশ ছেড়ে কলকাতা যাচ্ছি ...তোমার ছোটভাই কবি, ছবি আঁকার কলেজে ভর্তি হয়েছে শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি কবির যে নিষ্ঠা সাহস আছে, তাতে আমি বলতে পারি কবি একজন ভাল শিল্পী হতে পারবে সে ঠিক পথটিই বেছে নিয়েছে আমাদের সমাজে অভিভাবকরা ছবি আঁকা, গান বা নাটকে তাদের ছেলেমেয়েদের এগিয়ে দেন না তোমার বাবা পরিবারের সবাইকে সেজন্য আমার আন্তরিক ধন্যবাদ

ইতি- তোমাদের শিক্ষক, শ্রী সুরেশচন্দ্র চক্রবর্ত্তী।"

চিঠিতে উল্লিখিত সুলেমান সাহেবের ছোট ভাইটি হলো আজকের প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান, যিনি আজকের হাশেম খান হয়ে ওঠার পেছনে প্রধান প্রেরণা পেয়েছেন তাঁর প্রিয় এই শিক্ষক সুরেশচন্দ্র চক্রবর্ত্তীর কাছ থেকে। তাঁর শিক্ষক সুরেশচন্দ্র চক্রবর্ত্তী অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর এই ছাত্র একসময় দেশের খ্যাতিমান শিল্পী হবেন। তাঁর এই ধারণা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। হাশেম খান হয়েছেন এদেশের বিশিষ্ট অন্যতম চিত্রশিল্পী। তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় চিত্রশিল্পী, প্রচ্ছদ শিল্পী, বই নকশাকার, পোষ্টার ডিজাইনার, শিশু সংগঠক লেখক হিসেবে পরিচিত

শিক্ষক হিসাবে সুরেশচন্দ্র চক্রবর্ত্তী ছিলেন একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি পড়াতেন না। গল্প করতেন। ছাত্রদের ছিলেন খুব ভাল বন্ধু। তিনি নিজে ছাত্রদের ভালো ভালো বই দিতেন আর ছাত্রদের কাছ থেকে বই নিতেনও। হশেম খানের বই প্রীতি দেখে তিনি খুবই খুশী হলেন। অন্তরঙ্গতার এক পর্যায়ে হাশেম খানকে তিনি প্রথমে 'হাশেম খাঁ' পরে 'কবি' বলে সম্মোধন করতেন। কারণ হাশেম খান ইতিমধ্যেই নানা পত্রিকায় লেখা ছবি পাঠানো শুরু করে দিয়েছেন। ছোটদের কাগজে সেসব ছবি লেখা ছাপাও হয়েছে

আর ডা. সুলেমান খান, শিল্পী হাশেম খানের এই বড় ভাইটি তাঁকে শৈশবে সমস্ত শাসন থেকে এনে দিয়েছিলেন প্রথম মুক্তির স্বাদ। প্রিয় ভাইকে 'বড়দা' বলে ডাকতেন তিনি। 'বড়দা' মানে বয়সে দুই বছরের বড়। কিন্তু বড় হলেও দু'ভাই ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সুলেমান ছিলেন বইয়ের পোকা। বাড়িতে আসত 'প্রবাসী', 'বসুমতী', 'মর্ডান রিভিউ', 'মৌচাক'-এর মতো নানা পত্রিকা। তিনি হাশেম খানকে সেগুলো পড়তে উৎসাহিত করতেন। যাত্রা পালার গল্প শুনাতেন। নৌকা করে ঘুরে বেড়াতেন। কালী পুজোয় নিয়ে যেতেন জেলে পল্লীতে। সুলেমান স্কুল জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েছিলেন ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে। কলেজে উঠে বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন আণ্ডারগ্রাউন্ড কমিউনিস্ট পার্টির সাথে। ডাক্তারি পড়তে যখন ঢাকায় আসেন তখন পুরোদস্তুর বিপ্লবী। উদীচীর প্রতিষ্ঠাতাদের তিনি ছিলেন অন্যতম। হাশেম খানের রাজনৈতিক মনস্কতার পাঠ তাঁর হাতেই।

১৯৭১ সালে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে দু'ভাই মিলে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। সেখানেই ২৬ এপ্রিল রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর মুসলিম লীগ তাদের দলবলসহ অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। খুবই সুপরিকল্পিতভাবে। রাজনৈতিক কারণেই এদের সাথে পূর্ব শত্রুতা ছিল সুলেমান খানের। খুনীরা জানত হাশেম খানও বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার স্বাধীকার আন্দোলনের একজন সক্রিয় সংগঠক। আওয়ামী লীগের দফাসহ অন্যান্য আন্দোলনের পোষ্টার তাঁর হাতে করা। খুনীরা দরজা ভেঙ্গে প্রথমেই গুলি চালায় ডা. সুলেমান খানের বুকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

Rationale
UploaderRaihan Ahamed