Golden Bangladesh
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ :

তিতাস নদীর শান্ত প্রকৃতি দেখার মত একটি স্থান। এছাড়া তিতাস গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন করার মত একটি স্থান। আশুগঞ্জ ও ভৈরব বাজারের মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর উপর ভৈরব রেলওয়ে সেতু তৈরি হয়েছে তা যে কারও মনে দোলা দেবে। এর পাশ ঘেষেই বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এরফলে পূর্বের ফেরিঘাটের তুলনায় প্রায় ২ ঘন্টা সময় সাশ্রয় হয়েছে এবং পূর্বাঞ্চলের সাথে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরাট বিপ্লব ও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।

এছাড়াও, আরাফাইল মসজিদ (সরাইল), উলচাপাড়া মসজিদ (সদর), ভাদুঘর শাহী মসজিদ (সদর), কালভৈরব মন্দির (সদর), সৈয়দ কাজি মাহমুদ শাহ মাজার কাজিপাড়া (সদর), বাসুদেব মূর্তি (সরাইল), ঐতিহাসিক হাতিরপুল (সরাইল), খরমপুর মাজার (আখাউড়া), কৈলাঘর দূর্গ (কসবা), কুল্লাপাথর শহীদ স্মৃতিসৌধ (কসবা), বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের কবর (আখাউড়া), সৌধ হিরন্ময়, শহীদ মিনার, তোফায়েল আজম মনুমেন্ট, শহীদ স্মৃতিসৌধ, মঈনপুর মসজিদ (কসবা), বাঁশী হাতে শিবমূর্তি (নবীনগর), আনন্দময়ী কালীমূর্তি (সরাইল) ইত্যাদি এবং আর্কাইভ মিউজিয়াম অন্যতম। 

 প্রাকৃতিক শোভায় সুশোভিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় রয়েছে বহু দৃষ্টিনন্দন স্থান। এসব স্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু বর্ণনা উপস্থাপন করা হল-

বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজারের ফেরিঘাট

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়িকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বিষনন্দীতে মেঘনা নদীর উপর ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ফেরী চলাচলের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যোগযোগ সহজ হয়েছে। অন্যদিকে ফেরি চালু হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে ফেরিঘাট এলাকাটি এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বেড়ানোর স্থান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেরিঘাট ও সংলগ্ন নদী তীরে ঘুরতে আসছেন শত শত বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ফেরিঘাটকে ঘিরে বিনোদনপ্রেমী শত শত মানুষ ভীড় চোখে পড়ে। মানুষের এমন উপস্থিতিতে ফেরিঘাটের দুই পাড়ে রাতারাতি গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত হোটেল-রেষ্টেুরেন্ট, ফাস্টফুডের দোকান ও শিশুদের খেলনার দোকান। ফেরিঘাটের উভয় পাশে শতাধিক নৌকার মাঝি ব্যস্ত সময় পার করছেন বিনোদন প্রেমীদের নৌকায় করে নদীতে ঘুরিয়ে। আয় বেড়েছে মাঝিদের। এলাকার লোকজন স্বপরিবারে বিকেল বেলায় ভিড় করে মেঘনার জলের স্পর্শ নিচ্ছেন। উপভোগ করছেন দক্ষিনা বিশুদ্ধ বাতাস। ফলে মাঝরাত পর্যন্ত উৎসুক মানুষের ভিড় থাকে এই ফেরিঘাটকে ঘিরে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এক কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে আড়াইহাজার অংশে এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং বাঞ্ছারামপুর অংশে ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। জনসাধারণের চলাচলের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেরিঘাটটি গত ২৭ আগস্ট খুলে দেয়। প্রথম দিন থেকেই এঘাট দিয়ে অসংখ্য ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটর সাইকেল পারাপার হচ্ছে। 

কেল্লা শহীদ মাজার

 

আখাউড়ার খড়মপুরেঅবস্থিত হজরত সৈয়দ আহম্মদ (রঃ) এর দরগাহ যা কেল্লা শহীদের দরগাহ নামে সমগ্র দেশে পরিচিত।কেল্লাশহীদের দরগাহ সর্ম্পকে যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা হচ্ছে এই যে, সে সময় খড়ম পুরের জেলেরা তিতাস নদীতে মাছ ধরত। একদিন চৈতন দাস ও তার সঙ্গীরা উক্ত নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তাদেরজালে একটি খন্ডিত শির আটকা পড়ে যায়। তখন জেলেরা ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং খন্ডিত শিরটি উঠাতে গেলে আল্লাহরকুদরতে খন্ডিত শির বলতে থাকে ‘‘একজন আস্তিকেরসাথে আর একজন নাস্তিকেরকখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যে পর্যন্তকলেমা পাঠ করে মুসলমান না হবে ততক্ষণআমার মস্তক স্পর্শ করবে না।’’ খন্ডিত মস্তকেরএ কথা শুনে মস্তকেরকাছ থেকে কলেমা পাঠ করে চৈতন দাস ও সঙ্গীরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে যায়। মস্তকেরনির্দেশ মোতাবেক ইসলামী মতে খড়ম পুর কবরস্থানেমস্তক দাফন করে। ধর্মান্তরিতজেলেদের নাম হয় শাহবলা, শাহলো, শাহজাদা, শাহগোরা ও শাহরওশন। তাঁরাই এ দরগাহের আদিম বংশধর।এই দরগাহের খ্যতি ধীরে ধীরে চর্তুদিঁকে ছড়িয়ে পড়ে। এ থেকেই শাহ পীর সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ওরফে কেল্লাশহীদেরপবিত্র মাজার শরীফ নামে পরিচিতি লাভ করে। ২৬০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত দরগা শরীফের জায়গা তৎকালীন আগরতলা রাজ্যের মহারাজা দান করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ অনুমান করেন যে, আওলিয়া হজরত শাহ জালাল (রঃ) এক সঙ্গে সিলেটে যে ৩৬০ জন শিষ্য এসেছিলেন হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তরফ রাজ্যেও রাজা আচক নারায়নের সঙ্গে হজরত শাহজালালের প্রধান সেনাপতি হজরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন সে যুদ্ধে হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ শহীদ হন এবং তাঁর মস্তক তিতাস নদীর স্রোতে ভেসে আসে। প্রতি বছর ওরসে কেল্লাশতীদের মাজারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

কাউতলী থেকে লোকাল সিএনজি যোগে যাওয়া যায় ।  

সৌধ হীরন্ময়


১৯৭১ সালের ৫ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যায় নির্মমভাবে নিহত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক লুৎফুল রহমান (জাহাঙ্গির) ও মৃত্যুঞ্জয়ী অন্য বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে কাউতলীস্থ ত্রিভুজচত্বরে ‘সৌধ হিরন্ময়’ নামে একটি স্মৃতিবেদী নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ২৪শে নভেম্বর জেলা প্রশাসক এর ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, কাউতলীর গোরস্তানেঅধ্যাপকের সমাধির পরিচয়-ফলকে তাঁর জন্ম তারিখ ১১ই অক্টোবর, ১৯৩৭ ও মৃত্যু তারিখ ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ এবং

‘‘নয়ন সমুখে তুমি নাই

নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই।’’

কিভাবে যাওয়া যায়: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে রিক্সা অথবা অটোরিক্সা যোগে যাওয়া যায় ।  

ফারুকী পার্কের স্মৃতিস্থম্ভ

 

রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণাংশে ফারুক পার্কে গঠন শৌকর্যে অতি মনোরম একটি শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরেই বাংলাদেশে দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য স্মৃতিসৌধ এটা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্ত্তর স্থাপন করেন কুমিল্লার পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ও উপ-অঞ্চল ১২র উপ-আঞ্চলিক সামরিক আইন প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার আ ম সা আমিন পি এস পি ১৯৮৪ সালের ১৯শে মে। ১৯৮৫ সালের ২৯শে এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ও চীফ মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এনডিসি, পিএসসি এটা উদ্ধোধন করেন।  

কিভাবে যাওয়া যায়: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে রিক্সা অথবা অটোরিক্সা যোগে যাওয়া যায় ।  

হাতীর পুল


ঢাকা সিলেট বা কুমিল্লাসিলেট রোডের সংলগ্ন স্থানে অর্থ্যাৎ সরাইল থানার বারিউরা নামক বাজারের প্রায় একশত গজ দূরে ইট নির্মিত একটি উঁচু পুল বিদ্যমান। পুলটি সংস্কার করার ফলে এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয়। বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে পুলটিকে সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলটির হাতির পুল নামে পরিচিত। দেওয়ান শাহবাজআলী সরাইলে দেওয়ানী লাভের পর বর্তমানে শাহবাজপুরে তাঁর কাচারী প্রতিষ্ঠা করেন। শাহবাজ আলী সরাইলের বাড়ী এবং শাহবাজপুর যাতায়াতের জন্য সরাইল থেকে শাহবাজপুর পর্যন্তরাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। রাস্তাটি১৬৫০ খ্রিঃ দিকে নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। উক্ত রাস্তাটিপরিত্যক্ত অবস্থায় কুট্টা পাড়ার মোড় থেকে শাহবাজপুর পর্যন্তএখনও টিকে আছে। রাস্তাটিকেস্থানীয়রা জাঙ্গাল বলে থাকে। দেওয়ান শাহবাজ আলী এবং হরষপুরের জমিদার দেওয়ান নুরমোহাম্মদের সঙ্গে আত্মীয়তার সর্ম্পক ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মত প্রকাশ করে। ফলে উভয় পরিবারের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উক্ত জাঙ্গালটি ব্যবহৃত হতো বলে মনে করা হয়। উক্ত জাঙ্গালটির উপরে পুলটি অবস্থিত। শুধু মাত্র হাতির পিটে চড়ে দেওয়ানদের চলাচল আবার কথিত আছে পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম দেওয়া হতো বলে পুলটিকে হাতির পুল নামে অভিহিত করা হয়। পুলটির গায়ে অপূর্ব সুন্দর কারুকার্যকরা ছিল। সংস্কারের সময কিছু কারুকার্য নতুন করে তৈরী করা হয়েছে। জাঙ্গাল এবং হাতির পুলের পাশ দিয়ে বর্তমান ঢাকা সিলেট ও চট্টগ্রাম সিলেট রোড চলে গেছে। সরাইল হরষপুর জাঙ্গাল দিয়ে কবে থেকে লোক চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। হাতির পুলের নীচে দিয়ে ইংরেজ আমলেও নৌকা চলাচল করত বলে জানা যায়।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে সিএনজি নিয়ে যাওয়া যায় ।  

কেল্লা শহীদ মাজার

 

আখাউড়ার খড়মপুরেঅবস্থিত হজরত সৈয়দ আহম্মদ (রঃ) এর দরগাহ যা কেল্লা শহীদের দরগাহ নামে সমগ্র দেশে পরিচিত।কেল্লাশহীদের দরগাহ সর্ম্পকে যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা হচ্ছে এই যে, সে সময় খড়ম পুরের জেলেরা তিতাস নদীতে মাছ ধরত। একদিন চৈতন দাস ও তার সঙ্গীরা উক্ত নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তাদেরজালে একটি খন্ডিত শির আটকা পড়ে যায়। তখন জেলেরা ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং খন্ডিত শিরটি উঠাতে গেলে আল্লাহরকুদরতে খন্ডিত শির বলতে থাকে ‘‘একজন আস্তিকেরসাথে আর একজন নাস্তিকেরকখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যে পর্যন্তকলেমা পাঠ করে মুসলমান না হবে ততক্ষণআমার মস্তক স্পর্শ করবে না।’’ খন্ডিত মস্তকেরএ কথা শুনে মস্তকেরকাছ থেকে কলেমা পাঠ করে চৈতন দাস ও সঙ্গীরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে যায়। মস্তকেরনির্দেশ মোতাবেক ইসলামী মতে খড়ম পুর কবরস্থানেমস্তক দাফন করে। ধর্মান্তরিতজেলেদের নাম হয় শাহবলা, শাহলো, শাহজাদা, শাহগোরা ও শাহরওশন। তাঁরাই এ দরগাহের আদিম বংশধর।এই দরগাহের খ্যতি ধীরে ধীরে চর্তুদিঁকে ছড়িয়ে পড়ে। এ থেকেই শাহ পীর সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ওরফে কেল্লাশহীদেরপবিত্র মাজার শরীফ নামে পরিচিতি লাভ করে। ২৬০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত দরগা শরীফের জায়গা তৎকালীন আগরতলা রাজ্যের মহারাজা দান করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ অনুমান করেন যে, আওলিয়া হজরত শাহ জালাল (রঃ) এক সঙ্গে সিলেটে যে ৩৬০ জন শিষ্য এসেছিলেন হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তরফ রাজ্যেও রাজা আচক নারায়নের সঙ্গে হজরত শাহজালালের প্রধান সেনাপতি হজরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন সে যুদ্ধে হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ শহীদ হন এবং তাঁর মস্তক তিতাস নদীর স্রোতে ভেসে আসে। প্রতি বছর ওরসে কেল্লাশতীদের মাজারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

কাউতলী থেকে লোকাল সিএনজি যোগে যাওয়া যায় ।  

গঙ্গাসাগর দিঘী

 

অতীতে নৌ-পথের গুরুত্ব যখন অধিক ছিল, তখন হাওড়া নদীর তীরবর্তী গঙ্গাসাগর ছিল মূলত আগরতলার নদী-বন্দরস্বরূপ। গঙ্গাসাগরের পূর্বনাম ছিল রাজদরগঞ্জ বাজার। এ বাজার তৎকালীন সময়ের বিশিষ্ট ব্যাংক ‘দি এসোসিয়েটেড ব্যাংক লিঃ অফ ত্রিপুরা’র প্রধান অফির স্থাপিত হয়েছিল। তখনো উপমহাদেশে ব্যাংকের প্রচলন সঠিকভাবে হয়নি। এ অবস্থায় একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান অফিস স্থাপনা উল্লেখিত স্থানের ঐতিহাসিকতাকেই উজ্জ্বল করে বৈকি। তাছাড়া ত্রিপুরা রাজ্যের ভাটি অঞ্চলের খাজনা আদায়ের মহল অফিসও এ রাজদরগঞ্জ বাজারেই ছিল। রাজদরগঞ্জ বাজারের পরবর্তী নাম মোগড়া বাজার। এখানে ‘সেনাপতি বাড়ি’ নামে একটি জায়গা আছে। তাই মনে করা হয়ে থাকে যে, ত্রিপুরা-রাজ্যের কোন এক সেনাপতি এখানে বসবাস করতেনস্থায়ী অথবা অস্থায়ীভাবে। ত্রিপুরা-রাজ্যএখানে একটি বিরাট দীঘি খনন করান। গঙ্গা দেবীর নামানুষারে দীঘির নামকরণ করেন ‘গঙ্গাসাগর দীঘি’। সেই থেকেই জায়গাটির নাম গঙ্গাসাগর হয়।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে সিএনজি নিয়ে যাওয়া যায় ।  

বিদ্যাকুট সতীদাহ মন্দির

নবীনগর উপজেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিদ্যাকুট গ্রামের একটি স্থান। স্থানটি গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত। স্থানটি ভুতুড়ে বাড়ির মত নির্জন একটি জায়গা। এখানে অবস্থিত প্রায় দুই শতাধিক বছরের পুরাতন জীর্ণ একটি মন্দির। মন্দিরটির নাম সতীদাহ মন্দির। এটি নির্মাণ করেছিলেন বিদ্যাকুটের প্রসিদ্ধ হিন্দু দেওয়ান বাড়ির লোক দেওয়ান রাম মানক। এদেশে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর সঙ্গে জীবন্ত দাহ করা হত। কোন কোনক্ষেত্রেই সদ্য বিধবারা স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করত। কিন্তু অধিকাংশক্ষেত্রেই বলপূর্বক দাহ করা হত। জীবন্ত সতী নারীর চিৎকার যেন না শুনা যায় সে জন্য খুব জোরে ঢাক এবং বাদ্য যন্ত্র বাজানো হত।

হিন্দু সমাজের এই অমানবিক এবং বীভৎস প্রথা ১৮২৯ সনে লর্ড উইলিয়াম বেনটিংক আইন করে বন্ধ করে দেন। লর্ড বেনটিংক কর্তৃক সতীদাহ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ভারতের অন্যান্য স্থানের মত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও এ প্রথাবন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ১৮৩৫ সনে রাম মানিকের মাতাকে এই সতীদাহ মন্দিরটিতে সর্বশেষ সতীদাহ বরণ কারিণীর শ্বেত পাথরের একটি নাম ফলক বসানো ছিল। গত স্বাধীনতা যুদ্ধেও সময় এটি বিনষ্ট হয়। বর্তমানে বিদ্যাকুটে তাদের বংশধরেরা না থাকায় সেই সতী নারীর নাম জানা যায়নি।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

নবীনগর থেকে রিক্সা করে যাওয়া যায় ।  

হাতিরপুল

 

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন সরাইল উপজেলার বারিউড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০০গজ পূর্বদিকে রাস্তার বামপাশে হাতিরপুলটি অবস্থিত। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর থেকে পুলটিকে সংস্খার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেওয়ান শাহবাজ আলী সরাইলের দেওয়ানী লাভের পর বর্তমান শাহবাজপুরে তার কাঁচারী নির্মাণ করেন। কার্যোপলক্ষে সরাইলের বাড়ী এবং শাহবাজপুরে যাতায়াতের জন্য সরাইল থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেন। রাস্তাটি ১৬৫০খ্রি. নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। উক্ত রাস্তাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় কুট্টাপাড়ার মোড় হতে শাহবাজপুর পর্যন্ত এখনো টিকে আছে। পরিত্যক্ত এ রাস্তাটিকে স্থানীয়রা জাঙ্গাল বলে ডাকে। উক্ত জাঙ্গালটির উপরে পুলটি অবস্থিত। কথিত আছে দেওয়ানরা হাতির পিটে করে চলাচল করতো এবং পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম নেয়া হতো বলে এটিকে হাতির পুল নামে অভিহিত করা হয়। হাতির পুলের নীচ দিয়ে নৌকা চলাচল করে। পড়ন্ত বিকেলে এলাকার সৌন্দর্য পিপাষু জনসাধারণ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার উৎসাহী দর্শকরাও বেকেলের খানিকটা সময় এখানে কাটিয়ে যান।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড মোড় এসে সিএনজি যোগে সরাসরি আসা যায়। উপজেলা চত্বর থেকে সিএনজি যোগে যাওয়া যায়।  

আরিফাইল মসজিদ

 

১৬৬২ খ্রি. নির্মিত মোঘল আমলের ঐতিহাসিক নির্দশন এই সুরম্য মসজিদটি সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরিফাইল গ্রামে অবস্থিত। সরাইল উপজেলা চত্ত্বর থেকে প্রায় ১ কি.মি. পশ্চিমে মসজিদটির অবস্থান। এই মসজিদটি ৭০ফুটx২০ফুট আয়তনের। দেয়ালের পুরুত্ব ৫ফুট ৬ ইঞ্চি। স্থাপত্য কলা কৌশল ও অপূর্ব নির্মাণ শৈলীর কারণে মসজিদটিকে দেখতে অনেকটা তাজমহরে মতো মনে হয়। ৩৫০ বছর পূর্বে নির্মিত মসজিদটি একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রত্ন নিদর্শন। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তরের অধীন মসজিদটি প্রত্ন সম্পদ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। মসজিদটিকে নিয়ে অনেক কল্প কাহিনী রয়েছে। মসজিদটিকে দেখতে দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই এসে থাকেন।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড মোড় এসে সিএনজি যোগে সরাসরি আসা যায়। উপজেলা চত্বর থেকে রিক্সা যোগে কিংবা পায়ে হেটেও যাওয়া যায়।  

রাধিকা-নবীনগর মহাসড়কে তিতাস নদীর ব্রীজ

 

রাধিকা-নবীনগর মহাসড়কের উপর নির্মিত এই ব্রীজটি আশুগঞ্জ-ভৈরব সেতুর পর পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সবচেয়ে বড় সেতু। ব্রীজ দেখতে এবং বিকেল বেলায় হাওয়া খেতে প্রতি দিন অনেক লোকজন এখানে আসে। ব্রীজটির পূর্ব পাড়ে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা বার আউয়ালিয়া দরবেশগনের নামেধন্য সুপরিচিত বারআউলিয়ার বিল। যার ডাক নাম ‘‘বার আইল্লার বিল’’। তার পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ব্রাহ্মণহাতা গ্রাম হয়ে সূর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম ভূমি শীবপুর।

রাধিকা-নবীনগর মহাসড়কের উপর নির্মিত এই ব্রীজটি আশুগঞ্জ-ভৈরব সেতুর পর পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সবচেয়ে বড় সেতু। ব্রীজ দেখতে এবং বিকেল বেলায় হাওয়া খেতে প্রতি দিন অনেক লোকজন এখানে আসে। ব্রীজটির পূর্ব পাড়ে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা বার আউয়ালিয়া দরবেশগনের নামেধন্য সুপরিচিত বারআউলিয়ার বিল। যার ডাক নাম ‘‘বার আইল্লার বিল’’। তার পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ব্রাহ্মণহাতা গ্রাম হয়ে সূর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম ভূমি শীবপুর।   

তথ্যসূত্র : http://www.brahmanbaria.gov.bd