Golden Bangladesh
হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস

[গোল্ডেন বাংলাদেশ দেশের 64 জেলার ইতিহাস সহ প্রত্যেক জেলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করতে বদ্ধ পরিকর। তাই প্রত্যেক জেলার সদস্যদের নিজ জেলার তথ্য আপলোড করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্য আপলোড কারীর নাম তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হবে। তাই দেরি না করে নিজ জেলার গৌরবময় ইতিহাস সংযোজন করে সাইটটিকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।]   

ইতিহাস

চাকলাপুঞ্জী

প্রাগৈতিহাসিক প্রতিবেদন সমুহ হতে জানা যায় বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার সাথে লালমাই পাহাড় এবং সিলেট, হবিগঞ্জ,চট্টগ্রাম এবং মধুপুরের উচ্চতর এলাকাসমূহের সাথে যুক্ত ছিল। চাকলাপুঞ্জী চা বাগানের কাছে চান্দির মাজার নামক এলাকায় বালু নদী নামে পরিচিত একটি নদী পাড়ে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক সরঞ্জাম যেমন জীবাশ্ম কাঠ, হস্তনির্মিত যুদ্ধাস্ত্র ইত্যাদি দৃষ্টে এখানে প্রাচিন মানবের বসবাস ছিল প্রমানিত হয়।

মুগলদের সাথে বারোভূইয়াদের যুদ্ধ

১৫ শতকে সিলেটের জমিদার আনোয়ার খান এবং বানিয়াচংয়ের জমিদার হোসেন খান (বারো ভূইয়াদের দলভূক্ত) এর সাথে যুদ্ধ হয় মুঘল সেনাবাহিনীর, যা বাহরাস্থান-ই-গায়েবী গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়।

পুটিজুরী দুর্গ

খাজা ওসমান (আফগান রাজা) বাকাই নগর দুর্গ ছেড়ে এসে গিরিপালের কাছে পুটিজুরী নামক আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি গড়ে তোলেন একটি দুর্গ। যে প্রতিরক্ষার দৃষ্টিকোন থেকে ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাজা ওসমানের ভাই দুর্গ ত্যাগ করলে মুগল সেনারা সে সুযোগ গ্রহন করে খাজা ওসমানের সেনাদলকে বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার দালাম্বপুর নামক স্থানে পরাজিত করে।

তেলিয়াপাড়ার যুদ্ধ

৪ এপ্রিল, ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা তেলিয়াপাড়ায় ২য় ইষ্ট বেঙ্গলের সদরদপ্তরে সমবেত হন। চা বাগান পরিবেষ্টিত পাহাড়ী এ অঞ্চলে জেনারেল এম এ জি ওসমানী, লে: কর্ণেল আব্দুর রব, লে: কর্ণেল সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর শাফায়াত জামিল, মেজর মইনুল হোসাইন চৌধুরী সহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন সেদিন। সেদিনের সভায় চারজন সিনিয়র অফিসারকে যুদ্ধকালীন কর্মক্ষেত্র ভাগ করে দেয়া হয়। সিলেট-বাহ্মণবাড়ীয়া এলাকায় মেজর শফিউল্লা, কুমিল্লা-নোয়াখালী এলাকায় মেজর খালেদ মোশাররফ, চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় মেজর জিয়াউর রহমান এবং কুষ্টিয়া-যশোর এলাকায় মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই সভাতেই মুক্তিবাহিনী সাংগঠনিক ভাবে পরিপুষ্ট হয়ে উঠে এবং জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্ব গ্রহন করা হয়।

১৯৮৪ সালে হবিগঞ্জকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। এর আগে ১৮৭৪ সাল থেকে হবিগঞ্জ মহকুমা সিলেট জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শিক্ষা ব্যবস্থা

হবিগঞ্জ এর সাক্ষরতার গড় হার ৪৫%। মোট কলেজ আছে ১৬টি, যার ১ টি অনার্স কলেজ, ৩ সরকারি কলেজ, ১ টি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান; ১১ টি বেসরকারী কলেজ। ৬টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৯৯ টি বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয় আছে; আছে ১৪ টি জুনিয়র বিদ্যালয়; এছাড়া ৭৩২ টি সরকারী এবং ৭১১ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯৬ টি মাদ্রাসা এবং ৬টি অস্থায়ী বিদ্যালয় আছে।

অর্থনীতি

শ্রমশক্তি

কৃষি ৪২.২৬%, কৃষি শ্রমিক ২০.৫৫%, অকৃষি শ্রমিক ৬.৪৫%, ব্যবসা ৮.২%, চাকরি ৪.৬৯%, শিল্প ১.৭%, মত্সজীবী ২.৭৩%, অন্যান্য ১৩.৪২%।

অর্থনৈতিক সম্পদ

প্রধান ফসল: ধান, চা, গম, আলু, পাট, চীনাবাদাম , তাম্বুল এবং তৈল বীজ।

চা বাগান: ২৪টি চা বাগান, মোট আয়তন ১৫,৭০৩.২৪ হেক্টর।

রবার বাগান: ৩ রুপাইছড়া-বাহুবল (১৯৮১)। এই বাগানের অর্ধেক হবিগঞ্জ জেলায় ও অবশিষ্ট অংশ পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমংগল উপজেলায় অবস্থিত। মোট আয়তন ২,০০০ একর (৮.১ বর্গমাইল). শাহজীবাজার-চুনারুঘাট এলাকা (১৯৭৮), মোট আয়তন ২,০০৪ একর (৮.১১ বর্গ কিলোমিটার), সাতগাঁও রবার বাগান (১৯৭১), মোট আয়তন ২০০ একর (০.৮১ বর্গমিটার)।

প্রধান ফল: আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, নারকেল, পাতি লেবু, আনারস এবং কালোজাম ইত্যাদি।

মৎস্যচাষ এবং খামার: গরুর খামার ১৪৮ টি, পোল্ট্রি ৭৩৯ টি এবং ফিশারি ৬৩৮ টি.

যোগাযোগ ব্যবস্থা: পাকা রাস্তা (৩২১ কিলোমিটার), আধা-পাকা ২০৫ কিমি এবং ১৫৯২ কিমি কাঁচা রাস্তা); রেলওয়ে ১৭০ কিমি.

ঐতিহ্যবাহী পরিবহন: পালকি, গয়না নৌকা এবং গরুর গাড়ী.

শিল্পকারখানা: টেক্সটাইল মিল, সিরামিক কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করন কারখানা, ছাতা কারখানা, আটা কল, চাল কল, আইস ফ্যাক্টরী, সাবান কারখানা, শুকনো মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, বিস্কুট ফ্যাক্টরী.

কুটির শিল্প: ওয়েভিং, বাঁশের কাজ, স্বর্ণকার, কর্মকার, কুমার, সেলাই এবং ওয়েল্ডিং.

খনিজ সম্পদ: প্রাকৃতিক গ্যাস, সিলিকা বালি, খনিজ বালি, 3 গ্যাস ক্ষেত্রগুলি:

গ্যাস ক্ষেত্র: রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্র (১৯৬০), বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র (১৯৯৮) এবং হবিগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্র (১৯৬৩). এই গ্যাস ক্ষেত্র গুলির আনুমানিক মজুদ ৫.৫ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট। হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড মাধবপুর উপজেলা অবস্থিত। এই ক্ষেত্রটি পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানী দ্বারা ১৯৬৩ সালে আবিষ্কৃত হয়।

হাট, বাজার এবং মেলা: ১২৬ টি (হাট এবং বাজার) এবং ২৩টি (মেলা)।

রপ্তানী পন্য:

প্রধান রপ্তানি পন্য গুলি হল ধান, মাছ, চিংড়ি, ব্যাঙ এর পা, শুকনো মাছ, চা, পান পাতা, গুড়, রবার, বাঁশ, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল এবং টেক্সটাইল। [চলবে....]

তথ্যসূত্র : http://bn.wikipedia.org