Golden Bangladesh
সিরাজগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করুন

সিরাজগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করুন

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন সিরাজগঞ্জের উন্নয়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। বিকেন্দ্রী করনের স্বার্থে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন অপরিহার্য । স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতি নির্ধারকগণ সিরাজগঞ্জকে বেছে নিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের ভূখন্ডের মধ্যে শিল্পপার্ক স্থাপনে কাজ এগিয়ে চলেছে। ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালু হয়েছে। আগামীতে ১১শত মেগাওয়াট উৎপাদন কেন্দ্রে উন্নীত করার চিন্তা ভাবনা চলছে । মেরিন টেকনোলজি একাডেমী নির্মাণের কাজ চলছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতুর উজানে সিরাজগঞ্জ শহরের কাছাকাছি রেলসেতু নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে রেল সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ্রে জন্য যে রেল লাইন যাবে তাকে ঘিরে রেল জংশন গড়ে উঠবে। সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে খুব শিঘ্রই ।

শিল্পপার্কে ২০০টি শিল্প প্লট স্থাপিত হলে যে ১ লক্ষ লোকের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে অনিবার্য ভাবেই তাদের জন্য আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে হবে। শুধু আবাস স্থল নয় তাদের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিনোদন ইত্যাদির জন্য অনেক অবকাঠামো সিরাজগঞ্জের ভূখন্ডেই গড়ে উঠবে অত্যাবশ্যক ভাবেই। ২০১৩ সনে ভুটানের সঙ্গে নৌ যোগাযোগের চুক্তি হয়েছে। নৌ চলাচল হবে যমুনা নদী দিয়ে-সিরাজগঞ্জের ভিতর দিয়েই। স্বাভাবিক ভাবেই সিরাজগঞ্জে এক সময় নৌ টার্মিনাল স্থাপিত হবে। শিল্পপার্কের শিল্পগুলোর মালিক, পরিচালক, বায়ারদের যাতায়াতের জন্য সিরাজগঞ্জে আভ্যান্তরিন বিমান বন্দর নির্মান হবে নি:সন্দেহে।

এই যে বিরাট কর্মযজ্ঞ চলবে। এগুলো শুরু হবে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে, পৌরসভার বাইরেও । সয়দাবাদ, কালিয়াহরিপুর, খোকশাবাড়ি, শিয়ালকোল এবং কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে। অর্থাৎ উপজেলা পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং জেলা কর্তৃপক্ষের আওতায়। অনেক গুলো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে কর্মকান্ডগুলো। স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন জটিলতা সমন্বয়হীনতা বিরোধিতা কার্যগুলো পিছিয়ে দিবে। ঝামেলা তৈরী হবে মাঝে মধ্যেই। সেগুলোর সমন্বয় করার জন্য একটি উদ্যোগ অত্যাবশ্যক। একটি মাষ্টর প্লান অত্যান্ত জরুরী । এটি করবে কে ? কারা ? এজন্য দরকার বহু কর্তৃপক্ষের বদলে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা। এগুলোর প্রশাসনিক , প্রযুক্তিগত দিক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বহুমাত্রিক কাজ সুপারভিশন, মনিটরিং করার জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করার কোন বিকল্প নাই। এজন্য সিরাজগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করার প্রস্তাবনা উত্থাপন করছি। উল্লেখ্য যে, এ ধরনের পরিস্থিতির কারনেই রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে ।

সিরাজগঞ্জ সদর আসনের মাননীয় সাংসদ সদস্য এর চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবেন। সিরাজগঞ্জ উপজেলার ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান কো-চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবেন। সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সিভিল সার্জন , পানি উন্নয়ন বোর্ড , সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিসিকের কর্মকর্তা এর উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হবেন। উপদেষ্টা মন্ডলীতে সিরাজগঞ্জের কয়েকজন গণ্যমান্য এবং উন্নয়নমূখী সমাজ কর্মী অন্তভূক্ত থাকবেন। সদস্য হিসাবে থাকবেন এডিসি, ইউএনও, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ উপজেলা কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগণ সদস্য হবেন। এডিসি অথবা ইউএনও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এই কর্তৃপক্ষ অর্থ মন্ত্রনালয়ের, পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের, শিল্প মন্ত্রনালয়ের সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী , সচিব, আন্তর্জাতিক সাহায্যদাতা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করবেন- তহবিল সংগ্রহ করবেন , তা রক্ষণাবেক্ষন করবেন, ব্যয় করবেন।

ডা: জহুরুল হক রাজা
আহ্বায়ক
সিরাজগঞ্জ স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কামিটি
সিরাজগঞ্জ।