Golden Bangladesh
পটুয়াখালী জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

পটুয়াখালী জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের কুয়াকাটায়

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ব দ্বীপের বাংলাদেশ।
বাংলা বর্ণমালার
অক্ষরটির মতো আমাদের ভূখণ্ডের মানচিত্রটি। হাজার হাজার বছর আগে সমুদ্রের বুক চিরেই এ দ্বীপটি জেগে উঠেছিল। এ কারণে ভূ-তাত্ত্বিকরা এ দেশটিকে ব দ্বীপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমরাও সেটি অনুসরণ করছি। তবে এ শব্দটি খুব একটি প্রচলিত নয়।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল পুরোটাই সাগর ছোঁয়া। অর্থাৎ সাগরের জল থেকে ভেসে ওঠা এবং সাগরের ঠোঁটের সঙ্গে চুম্বনরত অবস্থায় রয়েছে।
দেশের ওই উপকূলজুড়ে রয়েছে একাধিক সি-বিচ বা সমুদ্র সৈকত। এর একটি কুয়াকাটা! ত্রিশ কিলোমিটারেরও অধিক দৈর্ঘ্য এ সৈকতের।
প্রায় চুয়ান্ন ঘণ্টা ওই কুয়াকাটায় আমি এবং সাংবাদিক হাসান আরিফ অবস্থান করলাম। এ সময়ের মধ্যে দিনে এবং রাতে আমরা একাধিকবার ওই সৈকতে ভিজেছি। আবার সকাল-বিকাল এবং রাতে দীর্ঘ সময় ধরে বিচের মাচায় বসে থেকে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা দেখেছি। কান পেতে শুনেছি গর্জন। আহ্ সমুদ্রের গর্জনেও যে ছন্দ আছে, আছে রিদম তা খুব নিবিড়ভাবে কান না পাতলে বোঝার উপায় নেই। ওই গর্জন আমাকে খু-উ-ব আকর্ষণ করেছে। যার কারণে আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন কি গভীর রাত পেরিয়ে শেষরাত পর্যন্ত বিচের মাচায় বসে সময় হত্যা করেছি। আর দুই চোখ ভরে দেখেছি ফেনায়িত ঢেউ। ঢেউয়ের পর ঢেউ। দিনের বেলায় মাচায় শুয়ে-বসে আমরা যখন সাগর দেখায় মগ্ন, তখন সি-বিচের পেশাদার কয়েকজন ফটোগ্রাফার হাতে ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়ে বিনয়ের সঙ্গে কথা শুরু করে। তখন এক পাতার লেমোনেটিং করা এ্যালবামও তাদের হাতে সংরক্ষিত দেখা যায়। তাতে বেশ কিছু ছবি সাঁটানো। আকর্ষণীয়ও বটে।
ছবিগুলো ফটোগ্রাফাররা তাদের আঙ্গুল দিয়ে নির্দেশ করে এমন ভাবে যে, এটি
কাউয়্যারচর
এখানে দাঁড়িয়ে আপনি সূর্যোদয় দেখতে পাবেন। চারদিকে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। চোখ ফিরিয়ে আনতে পারবেন  না। হ
ƒদয় ভরে উঠবে।
আর বিকালের আকাশ পরিষ্কার থাকলে সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্য কুয়াকাটার যে বিচে আপনি বসে আছেন, এখান থেকেই দেখতে পাবেন। এটি হচ্ছে কুয়াকাটার মিড পয়েন্ট এবং মূল বিচ।
ফটোগ্রাফার পশ্চিম দিগন্তে তার হাত প্রসারিত করে বলে, ওই দিকে তের কিলোমিটার দূরে গিয়ে সুন্দরবনের একাংশ দেখতে পাবেন। আর তার আগে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দেখবেন শুঁটকির মাচা। তার মানে সাগর থেকে শিকারীরা মাছ ধরে এনে তা কেটে ওই মাচানে শুঁকিয়ে রূপান্তরিত করে। যা কিনা শুঁটকিতে পরিণত হয়। প্রতিনিয়ত সাগর থেকে হাঙ্গর নিধন হচ্ছে, প্রশাসনের চোখের সামনে। অথচ প্রশাসনের কর্তারা দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রশাসনের এমন উদাসীনতার কথা শুনে আমাদের পাশের মাচানে বসা পর্যটক খানিকটা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বললেন, এটা বড়ই পরিতাপের বিষয়।
প্রকৃতির এ জলজ প্রাণী যা সাধারণত আমাদের দেশের মানুষের খাবারের মেনুতে নেই, তাও নিধন করা হচ্ছে! তুলে দেয়া হচ্ছে বিদেশীদের মুখে। এটা বড়ই অন্যায় কাজ। পর্যটক আরও উচ্চারণ করলেন;এমন অন্যায় চলতে দেয়া ঠিক নয়। ফটোগ্রাফার এক যুবক আবার বলে; স্যার আপনাকে আমরা মোটরসাইকেলে নিয়ে যাব আবার নিয়ে আসব। আপনার মনের মতো ছবি তুলব। প্যাকেজ টুরস্ স্যার! ওরা খুব যতœাদির সঙ্গেই কথাগুলো বলছিল। ওদের কথায় বিরক্ত হওয়ার মতো কিছু নেই। ওই টুরসে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অন্তত একবার জানতে ইচ্ছা করবে বাছাধনেরা টাকা-পয়সা কেমন খরচ হবে?
ওরা টুরিস্টদের সঙ্গে কোন প্রকার অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে চায় না। ওরা টুরিস্টদের সন্দেহের দ্বার উšে§াক্ত করে দিয়ে বলে; পশ্চিমে সুন্দরবনের অংশবিশেষ দেখতে গেলে দু
জন তিনশ টাকা।
আর পুবে গেলে পাবেন বৌদ্ধবিহারে বিশাল আকৃতির বৌদ্ধমূর্তি, মগ ও রাখাইনদের এলাকা এবং কাউয়্যারচরে দাঁড়িয়ে সূর্যের প্রথম উঁকিতো দেখবেনই। এই দিকের টুরস্টায় দু
জন চারশ টাকা।   
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় সরকারের বন বিভাগের খোদ কর্তাবাবুরাও বসবাস করে থাকেন।
সমুদ্র তীর থেকে বহু দূরে, অর্থাৎ গভীর সাগরে বিশালাকৃতির দুটি চর জেগেছে আরও বহু বছর আগেই।
ওই চর দুটির মধ্যে নিজেদের দূরত্বও রয়েছে অর্ধশত কিলোমিটার।
একটি
সোনার চর অপরটি রূপার চর নামকরণ করা হয়েছে। সেখানে বনায়ন করেছে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা। আর সেখানে জীবজন্তুর বংশবিস্তারও ঘটছে।
কয়েক বছর ধরেই ওই চরে বন্য মহিষের আবির্ভাব দেখা যায়। আর ওই চরে যাদের নিয়মিত পদচারণা রয়েছে তাদের মুখ থেকে শোনা গেল; বন্য মহিষগুলো খুবই হিংস্র। উপকূলীয় একজন সাংবাদিক জানালেন তীর থেকে সাগরের ভেতরে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত নাব্যতা কমে গিয়ে এখন পানির গভীরতা দাঁড়িয়েছে পনের-বিশ ফুটে। এ কারণেই হয়তো কিছুদিন আগে একজন বিজ্ঞানী বলেছেন,
আমাদের বঙ্গপোসাগরে আরও একটি বাংলাদেশ জেগে উঠছে।
আমরা আরও একটি বাংলাদেশ পাব এমন কথা শুনতেও বেশ ভালো লাগে। বড় সুখ সুখ মনে হয়। আমাদের ছোট্ট এই দেশটি তা হলে বেড়ে দ্বিগুণ হবে। জায়গা বেড়ে যাওয়া মানে উৎপাদনও বেড়ে যাওয়া! পাশাপাশি মানুষ বসবাসের জন্যও অবাধ জায়গা পাবে।


পটুয়াখালী জেলার পর্যটন অঞ্চল সংযোজনের কাজ চলছে। খুব শিঘ্রই পর্যটন অঞ্চল সংযোজন করা হবে। আপনার জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো সংযোজন করতে আমাদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন।