Golden Bangladesh
নড়াইল জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

নড়াইল জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ
  সবুজ শ্যামল অরুনিমা

চাকরি কিংবা ব্যবসা-কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠলেই মন একটু বিশ্রাম চায়। চায় মানুষের কোলাহল থেকে একটু দূরে কোথাও নিরিবিলি সময় কাটাতে। আবার শহুরে মন দূরে গিয়েও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা খোঁজে। খোঁজে ছোট ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার একঘেয়েমি ভুলে অল্পসময়ের জন্য হলেও আনন্দময় সময় কাটাবে এমন পরিবেশ। বাংলাদেশের শ্যামল-সবুজ গ্রামের খোলা হাওয়ায় এমনই পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করেছে শাহবাজ ট্যুরিজম লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠান নড়াইল উপজেলার কালিয়া উপজেলায় পানিপাড়ায় গড়ে তুলেছে অরুণিমা গলফ ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্ট। তবে গলফ ক্লাবের চেয়ে অরুণিমা ইকোপার্ক, অরুণিমা কান্ট্রিসাইড বা পানিপাড়া পর্যটন কেন্দ্র নামেই স্থানীয়দের কাছে এটি বেশি পরিচিত। অবকাশযাপন কেন্দ্র বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই অরুণিমা গলফ ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্ট।
কী নেই অরুণিমা কান্ট্রিসাইডে? মধুমতি নদীর তীরে গড়ে তোলা এই রিসোর্টে আছে এসি, নন-এসি ৩৬ কক্ষের বিভিন্ন ধরনের কটেজ। আছে ৪০ বেডের তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি, ডাইনিং হল, কনফারেন্স হল, ট্রেনিং সেন্টার। রিসোর্টের ভেতরে আছে ১৯টি পুকুর, নাইন হোল গলফ কোর্স, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল খেলার মাঠ, ছোটদের বিনোদনের জন্য খেলাধুলার পার্ক, পাখির অভয়ারণ্য, ঝাউবন, গোলাপ ফুলের বাগান, ফলের বাগান, পুকুরের মাঝখানে নদী কিংবা পুকুরে লঞ্চ বা নৌকায় বেড়ানো, আরও অনেক কিছু।
সবচেয়ে মনোরম কটেজগুলোর সৃষ্টিশৈলী আর অবস্থান। দুই পাশে লেক রেখে মাঝখানে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট কটেজ, যার ওপরটা দেখতে মনে হবে খড়ের ছাউনি দেওয়া। আছে কাঠের ঘর। এসব কটেজের বেশিরভাগই  শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
মোটকথা নাগরিক সুবিধায় গাছপালা-নদী-পুকুর ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশে পরিবার নিয়ে একটি দিন কাটানোর
কোনো কিছুরই অভাব নেই। রিসোর্টের বাইরে বেরোলেই এক্কেবারে খাঁটি গ্রাম।

মাওয়ায় পদ্মা নদী পার হয়ে গোপালগঞ্জ বিশ্বরোড ধরে ভাঙ্গা যেতে হবে। সেখান থেকে ভাটিয়াপাড়া হয়ে চন্দ্রদিঘলিয়া। সেখানে বরফা ফেরিঘাট পার হলেই অরুণিমা কান্ট্রিসাইড। নিজের বা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে গেলে ঢাকা থেকে অরুণিমা কান্ট্রিসাইডে পৌঁছতে সময় লাগবে ৪ ঘণ্টা, অবশ্য যদি ফেরিঘাটে অস্বাভাবিক দেরি না হয়। আর বাসে গেলে যোগ করে নেবেন আরও ঘণ্টা দেড়েক সময়।
অরুণিমার কটেজগুলোর ভাড়া ১২০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা। ক্রেডিট কার্ডধারীরা কটেজে থাকার ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। ডরমিটরিতে থাকার জন্য প্রতি বেডের ভাড়া ৩০০ টাকা। এ ছাড়া বোটিং, লঞ্চ চড়া, গলফ খেলা-এসবের জন্য দিতে হবে বাড়তি টাকা। এখানে পাবেন নদী থেকে ধরা মাছ থেকে শুরু করে রিসোর্টের নিজস্ব জমিতে ফলানো সবজিসহ সব ধরনের ফ্রেশ খাবার। আছে অস্ট্রেলিয়ান বার-বি-কিউর ব্যবস্থা।
প্যাকেজের ব্যবস্থাও আছে এই রিসোর্টে। এসি কটেজে দুজনের জন্য দুই রাত তিন দিনের প্যাকেজ ৯৭০০ টাকা। তিন বেলার খাবারও এতে অন্তর্ভুক্ত। নন-এসি কটেজে একই প্যাকেজ ৭৩০০ টাকা। এক রাত দুই দিনের প্যাকেজ এসি কটেজ ৫৪০০ টাকা ও নন-এসি কটেজ ৪২০০ টাকা। যাওয়া-আসার ব্যবস্থা করতে হবে আপনাকে।
ঢাকায় অরুণিমা গলফ ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্টের অফিসের ঠিকানা : বাড়ি-১, লেন-১, খান-ই-খোদা রোড, পশ্চিম ভাটারা, বারিধারা নতুন বাজার। ফোন-৯৮৯৬৯৪৫। এ ছাড়া সরাসরি রিসোর্টের ম্যানেজার আবদুল হাকিমের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন। ফোন-০১৭২৮৬০৩৭৪৯।

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ

১৯৩৬ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চণ্ডিকপুরের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আমানত শেখ, মা জেন্নাতুনেসা খানম। ১৪ মার্চ ১৯৫৯ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন। ১৯৭১-এর মার্চ মাসে গ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটাতে এসে নূর মোহাম্মদ শেখ মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি যশোর ৮নং সেক্টরে যুদ্ধরত ছিলেন। রোববার ৫ সেপ্টেম্বর দুইজন সহযোদ্ধার সঙ্গে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে স্থায়ী টহল-দলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাকসেনারা অতর্কিতে তাদের তিন দিকে অবস্থান নিয়ে টহল-দলটিকে ঘিরে ফেলে। তিনজনের দলটি স্বল্প অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবল প্রতাপের সঙ্গে পাকসেনাদের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকে। এক সময় তিনি ও তার সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া আহত হলে অপর সহযোদ্ধা মোস্তফাকে কমান্ডার হিসেবে নির্দেশ দেন আহত নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষায় ফিরে গিয়ে হানাদারদের আক্রমণের খবর দিতে। মোস্তফা অধিনায়কের নিশ্চিত মৃত্যুর আশংকায় তাকে ছেড়ে যেতে রাজি হয়নি। কিন্তু শেষে অগত্যা কমান্ডারের নির্দেশে রাজি হতে হয়। শত্রদের নিজস্ব অবস্থান আর সৈন্য সংখ্য বুঝতে না দেয়ার জন্য দ্রুত স্থান পাল্টে পাল্টা গুলি চালাতে থাকেন। একসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার সব শরীর অবশ হয়ে আসতে থাকলেও তিনি গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে গুলি চালাতে থাকেন, ফলে কোন রকম বিপত্তি ছাড়াই নান্নু মিয়া আর মোস্তফা নিরাপদে প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পারে। ঘণ্টা খানেক পরে মুক্তিযোদ্ধারা শক্তিশালী হয়ে গোয়ালহাটিতে এসে পাকসেনাদের পাল্টা আক্রমণ চালায়। বেগতিক দেখে শত্রু সেনারা পিছু হটে তাদের ঘুটিপুর ঘাঁটিতে চলে যায়। সিপাহি মোস্তফা ও সহযোদ্ধারা সেই গাছপালা ঘেরা জায়গাটিতে তাদের অকুতোভয় ল্যান্স নায়েককে খুঁজতে থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে এক ঝোঁপের নিচ থেকে তাদের প্রিয় ল্যান্স নায়েকের প্রাণহীন দেহটি আবিষ্কার করেন। যশোরের কাশিপুরে তাকে সমাহিত করা হয়। ২০০৮ সালে সরকার তার গ্রাম মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে নূর মোহাম্মদনগর করে সেখানে একটি স্মৃতি জাদুঘর ও একটি গ্রন্থাগার নির্মাণ করে। নূর মোহাম্মদের স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্র ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র ও প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই রয়েছে।