Golden Bangladesh
মাগুড়া জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

মাগুড়া জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

রাজা সীতারাম এর রাজপ্রাসাদ 


রাজা সিতারাম রায় উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ, তিনি চিত্র গুপ্তের পুত্র। বিশ্বভানুর বংশে জাত কাস্যপদাস বংশীয়। উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থের মধ্যে বাৎসসিংহ সৌকালীন ঘোষ, বিশ্বমিত্র, মৌদগল্য দাস ও কাস্যপ দেবদত্ত আদি সুরের সময় বঙ্গে আসেন; এই ৫ ঘরই প্রধান বীজ স্বরূপ বলে খ্যাত। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে রাজা মানসিংহ যখন রাজ মহলে রাজধানী স্থাপন করেন, সম্ভবতঃ তখন শ্রীরাম দাস তাঁর নিকট হতে ‘‘খাস বিশ্বাস’’ উপাধী লাভ করেন। তিনি সুবাদারের খাস সেরেস্তায় হিসাব বিভাগে বিশ্বস্ত কর্মচারী ছিলেন। তৎপুত্র হরিশচন্দ্র অল্পবয়সে পিতার সঙ্গে রাজ সরকারে কার্যারম্ভ করেন এবং রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ার সঙ্গে ঢাকায় যান (১৬০৯ খ্রীষ্টাব্দে)। তিনি সেখানে কর্মদক্ষতা দেখিয়ে ‘‘রায় বাঁয়া’’ উপাধি পান। তৎপুত্র উদয় নারায়ণ ভূষণার ফৌজদারের অধীন সাজোয়াল বা তহশিলদার নিযুক্ত হয়ে ভূষণায় আসেন। ইনিই সীতারামের পিতা। মাগুরা জেলা শহর হতে ১০ মাইল পূর্বে মধুমতি নদীর তটে মাগুরা জেলায় অবস্থিত মহম্মদপুর উপজেলা। এই মহম্মদপুর উপজেলা শহর এলাকায় ছিল রাজা সীতারামের রাজধানী ও বাসস্থান। এটা বৃহত্তর যশোরের একটি গৌরবের স্থান। অবশ্য ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত বোয়ালমারি উপজেলা শহর থেকেও এই স্থানে যাওয়া যায়। বোয়ালমারী বাজার হতে এই স্থান ৬/৭ মাইল পশ্চিমে। সাহিত্য সম্রাট বঙ্গিম চন্দ্রের ‘‘সিতারাম’’ নামক উপন্যাসের সহিত শিক্ষিত বাঙ্গালি মাত্রেই পরিচিত। এই মহম্মদপুরে রাজা সিতারাম রায়ের রাজধানী ছিল। সীতারামের আদিনিবাস ছিল বীরভূম জেলায় জাতিতে তিনি উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ ছিলেন। তাঁর পিতা উদয় নারায়ণ প্রথমে রাজমহলে নবাব সরকারে কার্য্য করিতেন, পরে ভূষণা পরগণায় তহশিলদার পদে নিযুক্ত হইয়া আসেন। তাঁহার পত্নীর নাম দয়াময়ী।

১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে সীতারামের জন্ম হয়। উদয়ন নারায়ন ক্রমে একটি ক্ষুদ্র তালুক ক্রয় করেন এবং মধুমতি নদীর অপর পারে হরিহর নগরে বাস করিতে থাকেন।

সীতারামের মাতা দয়াময়ী তেজস্বিনী নারী ছিলেন। কথিত আছে অল্প বয়সে একটি খড়েগর সাহায্যে এক দল ডাকাতকে তিনি পরাস্থ করিয়াছিলেন। মহম্মদপুরে আজও ‘‘দয়াময়ী’’ তলা নামে একটি স্থান দৃষ্ট হয়; এই স্থানে সীতারামের সময়ে বারোয়ারী উৎসব হইতো। সীতারামের অভুত্থান সর্ম্পকে নানারূপ কাহিনী প্রচলিত আছে। কেহ কেহ বলেন যে সপ্তদশ শতকের শেষভাগে বাংলার তদানিন্তন ভৌমিক রাজগণ যথাসময়ে রাজকর না দেওয়ায় দিল্লীর বাদশাহ সীতারামকে তাঁহাদের নিকট হইতে বাকী রাজকর আদায়ের জন্য সৈন্য সামন্তসহ প্রেরণ করেন। সীতারাম আসিয়া তাঁহাদিগকে যুদ্ধে পরাস্ত ও রাজ্যচ্যুত করিয়া স্বয়ং তাহাদের রাজ্য অধিকার করেন এবং পরে বাদশাহের সহিত বিবাদের ফলে তাহার পতন ঘটে। মতান্তরে সীতারাম ভূষণা পরগণার অন্তর্গত মধুমতির পূবর্বপারস্থিত হরিহর নগর নামক একটি তালুকের অধিপতি ছিলেন।

বর্তমান মহম্মদপুরের নিকটবর্তী শ্যামনগর নামক গ্রামেও তাঁহার কিছু ভু-সম্পত্তি ছিল। প্রবাদ, মহম্মদ শাহ নামক স্থানীয় এক ফকিরের নাম হইতে মহম্মদপুর নাম হইয়াছে। সীতারামের প্রভাবে সমগ্র ভুষণা তাঁহার অধিকারভুক্ত হইলো এবং দস্যু সরদার তাঁহার সহিত যুদ্ধে পরাজিত হইয়া দলবলসহ তাঁহার সেনাবাহিনীতে যোগদান করিল। সীতারাম স্বাধীন রাজার ন্যায় রাজস্ব করিতে লাগিলেন। শীঘ্রই ভূষণার ফৌজদার মীর আবু তোরাপের সহিত তাঁহার সংঘর্ষ উপস্থিত হইলো। সীতারামের সেনাপতি মেনাহাতির হস্তে আবু তোরাপ নিহত হইলেন। মেনাহাতীর প্রকৃত নাম রামরূপ (মতান্তরে মৃম্ময়) ঘোষ। তিনি দক্ষিণ রাঢ়ীয় কায়স্থ ছিলেন। মেনাহাতীর অর্থ ছোটখাট স্ত্রী হস্তি, তাঁহাকে একটি ছোটখাট হাতী বলিয়াই মনে হইতো। আবু তোরাপের মৃত্যু সংবাদ শ্রবণে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ মেনাহাতী ও সীতারামকে দমন করিবার জন্য বক্স আলী খাঁ ও দিঘাপতিয়ার দয়ারাম রায়ের নেতৃত্বে বহু সৈন্য সামন্ত প্রেরণ করিলেন। জনশ্রুতি যে, মহাবীর মেনাহাতী অক্ষয় কবচের অধিকারী ছিলেন; কোনরূপ অস্ত্র দ্বারা তাঁহার দেহ বিদ্ধ হইতো না। একদিন দোল মঞ্চের নিকট দিয়া যাইবার সময় সিতারামের জনৈক বিশ্বাস ঘাতক কর্মচারীর পরামর্শ মত শত্রুসৈন্য তাঁহাকে অতর্কিতভাবে আক্রমন করিয়া বন্দী করিয়া ফেলিল। সাতদিন পর্যন্ত তাহাদের হন্তে নিদারুন নির্যাতন ভোগ করিবার পর আর সহ্য না করিতে না পারিয়া মহাবীর মেনাহাতী স্বীয় অক্ষয় কবচ পরিত্যাগ করেন এবং মৃত্যুকে বরণ করিয়া লন। ১৪১৭ খ্রীষ্টাব্দে তাঁহার মৃত্যু হয়। কথিত আছে যে, তাহার মৃতদেহ হইতে মস্তকটি কাটিয়া লইয়া মুর্শিদাবাদে পাঠানো হয়। মানুষের মাথা যে এত বড় হইতে পারে তাহা দেখিয়া নবাব মুর্শিদকুলি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন , যে এরূপ মহাবীরকে কোনভাবেই হত্যা করা উচিত হয় নাই, নবাব মাথাটি সম্ভ্রমে মহম্মদপুরে ফিরাইয়া দিলেন। ইতিমধ্যে সেনাপতির মস্তকহীন দেহ যথারীতি সৎকার করিয়া অন্থি সমাহিত করা হয়; মস্তকটিও তথায় সমাধি করিয়া সীতারাম একটি উচ্চ সমাধি স্তম্ভ নির্মাণ করাইয়া ছিলেন। মেনাহাতীর মৃত্যুর পর সীতারামের পতন ঘটে। যুদ্ধে পরাজিত ও বন্দি হইয়া তিনি মুর্শিদাবাদে প্রেরিত হন। দয়ারাম রায়ই সঙ্গে করিয়া সীতারামকে মুর্শিদাবাদে লইয়া যান। পথিমধ্যে দিঘাপতিয়ায় যাইবার সময়ে তাহাকে নাটোর রাজবাটির কারাগারে বন্দি করিয়া রাখিয়া যান। মুর্শিদাবাদে কয়েক মাস বন্দী থাকিবার পর তিনি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হন। কেহ কেহ বলেন, তিনি বিষ পানে আত্মহত্যা করেন। মুর্শিদাবাদে গঙ্গাতীরে তাঁহার শ্রাদ্ধ হইয়াছিল।

মহম্মদপুরে সীতারামের বহু কীর্তি আজিও বিদ্যমান আছে। উহাদের মধ্যে প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, রাম সাগর, সুখ সাগর ও কৃষ্ণসাগর নামে দীঘি, দোল মঞ্চ ও রাজভবনের ধ্বংসাবশেষ সিংহদরওজা, মালখানা, তোষাখানা, দশভুজা মন্দির, লক্ষ্মী নারায়ণের অষ্টকোন মন্দির, কৃষ্ণজীর মন্দির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। অতীতে এই দুর্গের চর্তুদ্দিকস্থ খাত দিয়া মধুমতির স্রোত প্রবাহিত হইতো। সীতারামের দুইটি প্রধান বড় কামানের নামকরণ হইয়াছিল কালে খাঁ ও ঝুম ঝুম খাঁ। রামসাগর দীঘিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫০০ ফুট ও প্রস্থে ৬০০ ফুট। ইহার জল এখনও প্রায় নির্ম্মল ব্যবহারোপযোগী আছে। কৃষ্ণসাগর দিঘীটি মহম্মদপুর দুর্গের দক্ষিণ পূবর্ব দিকে কানাই নগর গ্রামে অবস্থিত।
সীতারামের পতনের পর ভূষণা রাজ্য নাটোর রাজ বংশের সম্পত্তিতে পরিনত হয়।

মহম্মদপুর সমৃদ্ধির সময়ে মধুমতি নদী এই স্থানের প্রান্ত দিয়া প্রবাহিত ছিল। বর্তমানে নদী প্রায় দুই মাইল দূরে সরিয়া গিয়াছে। ১৮৩৬ খ্রীষ্টাব্দে এক ভীষণ মহামারীর ফলে মহম্মদপুর একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া যায়। এবং তাহার পর হইতে ক্রমশঃ ইহা একটি নগন্য পন্ডগ্রামে পরিনত হয়। বাগের হাটের খাঁন জাহান আলী মতো সীতারামেরও একদল বেলদার সৈন্য ছিল। কথিত আছে, সংখ্যায় এরা ২২০০ ছিল এবং যুদ্ধের সময় ছাড়া অন্য সময়ে জলাশয় খনন করিয়া লোকের জলকষ্ট দুর করাই তাহাদের কাজ ছিল। কথিত আছে, সীতারাম প্রতিদিন নবখনিত জলাশয়ের জলে স্নান করিতেন এবং এই জন্য প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন স্থান হইতে রাজধানীতে জল আনা হইতো। এইরূপে তিনি বহু পুস্করিণী প্রতিষ্টা করিয়া গিয়াছেন।

সীতারামের সৈন্যদলে বহু মুসলমান ছিলেন। কথিত আছে, তিনি মুসলমান সেনাপতিদিগকে ভাই বলিয়া ডাকিতেন এবং হিন্দু মুসলমানের মিলনের জন্য সতত চেষ্টিত ছিলেন। গ্রাম্য কবিদের গানে ও গাঁথায় ইহার প্রমাণ আজও পাওয়া যায়।

যাতায়াত: মাগুরা সদর হতে ২৮ কি.মি. দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় রাজাবাড়ী নামক স্থানে রাজা সীতারাম রায়ের বাড়িটি অবস্থিত। মহম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড হতে আধা কিলোমিটার উত্তরে পাকা রাস্তার পার্শ্বে রাজবাড়ির অবস্থান। রিক্সা, ভ্যান অথবা পায়ে হেটে যাতায়াত করা যায়।

 

সিদ্ধেশ্বরী মঠ

 

মাগুরা শহর হতে দেড় মাইল দূরে  আঠারখাদা গ্রামে নবগঙ্গা নদীর তীরে সিদ্ধেশ্বরী মঠ অবস্থিত।  সু-প্রাচীন কালে মঠস্থল কালিকাতলা শ্মশান নামে পরিচিত ছিলো। অতি প্রাচীন কাল হতে এই শ্মশানে একটি মঠ এবং সিদ্ধেশরী মাতার মন্ত্রে-মন্ত্রাঙ্কিত শিলাখন্ড ও কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণ এই স্থানটি ছিলো সন্যাসীদের তপস্যা স্থল। সপ্তদশ শতকে এবং তার আগেও এখান থেকে নবগঙ্গা ধরে পূর্ন্যাত্না ব্যক্তিরা তীর্থে কামাক্ষ্যা যেতেন। সে কারনে ঐ সময় স্থানটিতে বহু সাধুজনদের সমাগম ঘটতো। এক সময়ে রঙ্গমাচার্য নামে বর্তমান  চট্রগ্রাম অঞ্চলের এক সন্যাসী সিদ্ধেশ্বরী মঠের মঠ-স্বামী ছিলেন। বহুকাল পরে যখন ব্রহ্মান্ডগিরি বা ব্রহ্মানন্দগিরি নলডাঙ্গার অধিশ্বর শ্রীমন্ত রায় বা রনবীর খাকে দীক্ষিত করেন, সেই সময় থেকে তিনি এই কালিকাপুর সিদ্ধেশরী মঠে এসে বসবাস  শুরু করেন। তখন মঠে সন্যাসীদের বাসপযোগী তেমন কোন আশ্রয়স্থল ছিল না। তখন নলডাঙ্গার অধিশ্বর শ্রীমন্ত রায় দীক্ষা গুরু ব্রহ্মান্ডগিরির আদেশে  পূর্ববর্তী মঠে সাধুগণের বাসউপযোগী আশ্রম নির্মাণ করে দেন এবং ২৫০ বিঘা জমি নিষ্কর ভূ-সম্পত্তি দেবোওর সরুপ দান করেন। ব্রহ্মান্ডগিরি বহুকাল জীবিত ছিলেন। রাজা চন্ডীচরণ, ইন্দ্রনারায়ণ ও সুরনারায়ণ সবাই তার শিষ্য। ব্রহ্মান্ডগিরি অর্ন্তধ্যানের পর মাগুরা কালিকাপুর সিদ্ধেশ্বরী মঠের দিকে পরবর্তী রাজাদের সু-দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়নি। মঠস্বামীদের নিযুক্ত গোমস্থাদের অযত্ন ও স্বার্থপরতার জন্য ক্রমেই উহার পূজাদির অব্যবস্থা এবং মঠের দুরাবস্থা হতে থাকে। শিলাখন্ড খানি অপহৃত হয় এবং মন্দিরাদি ভগ্ন ও ভুমিসাৎ হয়। পুজার ঘটটি পর্যন্ত স্থানান্তরিত হয়ে কোন প্রকারে রীতি রক্ষা হতে থাকে। এমনকি কয়েকজনে মঠের স্থানটি পর্যন্ত নিজের সম্পত্তিভুক্ত করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু দৈব প্রতিবন্ধকাতায় উহারা সফল হয়নি। সকলেই কালগ্রস্থ বা নিঃবংশ হয়েছেন। এই জন্য স্থানটি ভীষন  জঙ্গালাকীর্ণ হয়ে পড়ে। মায়ের কৃপা কটাক্ষ পাতে প্রায় দুইশত বছর পর অমলানন্দ নামক একজন ব্রাহ্মন সাধু সন্যাসি স্বপ্নাদেশ অনুসারে উক্ত স্থানে এসে পুনরায় মঠ প্রতিষ্ঠা করেন।  আবার কালিকাপুর কে জাগিয়ে অমলানন্দ সন্যাসি কালিকাপুর মঠের প্রাচীন মন্দিরের ভগ্নস্ত্তপের উপর নতুন পাকা মন্দির নির্মাণ করেন এবং তার মধ্যে এক অপুর্ব মৃন্ময়ী কালিকা প্রতিমা স্থাপন করেছিলেন। দুটি শব’ শিশু কাঁধে করে নীল বরনী শ্যামা শিব বক্ষে নৃত্য করেছেন। তার ভীষণামুর্তির অন্তরাল হতে দিব্য কিরণ দৃষ্টি বিচ্যুতি হয়ে পড়েছে। বর্তমানকালে এই ধরনের মূর্তি আর কোথাও দেখা যায়না বা না। ব্রহ্মান্ডগিরি বহুকাল জীবিত ছিলেন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পরবর্তীতে  নলডাংগা রাজাদের ইচ্ছানুযায়ী ব্রহ্মান্ডগিরি মাগুরা কালিকাপুর সিদ্ধেশরী মঠের অনুকরনে নলডাংগাতে সিদ্ধেশরী দেবীর মন্দির নির্মাণ করে দেন।

যাহোক ইং-১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে পাক-দোসর কর্তৃক মন্দিরের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। শুধুমাত্র মন্দিরের সামনের তিনটি পিলার সহ মন্দিরের পাকা ভিটা ছিল। পরবর্তীতে কোন একদিন কালীমাতার সাধক কুন্ডেশ্বরী ঔষুধালয়ের কবিরাজ শ্রী দুলাল অধীকারি সপ্নাদ্রষ্ট হয়ে এ্যাডঃ দীপক রায় চৌধুরী, স্বর্ণ ব্যাবসায়ি নারায়ণ চন্দ্র দাস, হস্তরেখাবিদ শ্যামাপ্রসাদ ভট্ট্যাচার্য্য প্রমূখ ব্যক্তিগণকে জানান এবং উক্ত ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় পুনরায় মন্দির সংস্কার করে এবং মায়ের মূর্তি তৈরী করে নিয়মিতভাবে পুজার ব্যবস্থা শুরু করা হয়। অবশ্য উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গগণের অবদান অবিস্মরণীয়। ব্যবসায়ী মন্টু সিকদার, সাংবাদিক অধ্যাপক মিহির লাল কুরী, ব্যবসায়ী বিকাশ ভট্টাচার্য্য, শিক্ষক মিলন ভট্টাচার্য, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কালিদাস ভট্টাচার্য্য, শিক্ষক শান্তিপদ সিকদার প্রমুখ।

অনেকেই নলডাংগা সিদ্ধেশরী মন্দির স্থাপত্যের ইতিহাসের সাথে মাগুরার সিদ্ধেশরী মন্দিরের ইতিহাসকে এক করে ফেলেন, আসলে দুইটির ইতিহাস ভিন্ন, কিন্তু একথা ঠিক যে মাগুরা সিদ্ধেশরী মন্দিরের পশ্চাতে নলডাঙ্গার রাজাদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। মাগুরা সিদ্ধেশরী মন্দির অতি প্রাচীনকালে স্থাপিত হয়েছে যার সঠিক স্থাপত্য সন জানা যায় না। কে বা কারা এই মন্দির নির্মাণ করেন তাও  জানা যায় না। এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, নলডাঙ্গার কালিকাপুর এবং মাগুরা কালিকাপুর ভিন্ন স্থান মাগুরা কালিকাপুর  সিদ্বেশ্বরী মন্দির অতি প্রাচীণকালে স্থাপিত, আর নলডাঙ্গা কালিকাপুর সিদ্ধেশরী  মন্দির মোগল আমলে স্থাপিত।

যাতায়াত: মাগুরা শহর হতে ৩ কি.মি. উত্তরে আঠারখাদা গ্রামে নবগংগা নদীর তীরে সিদ্ধেশ্বরী মঠ। টেম্পু, রিক্সা ও ভ্যানযোগে যাতায়াত করা যায়।

ভাতের ভিটা

মাগুরা সদর উপজেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত বেয়ে ফটকী নদীর উত্তর তীরবর্তী এক পল্লীগ্রাম টিলা। নামের সাথে গ্রামের ভূ-প্রকৃতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে পূণ্যস্থান হিসেবে আদৃত ভাতের ভিটা মাগুরা জেলা শহর হতে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণের এই টিলা গ্রামে অবস্থিত। ভাতের ভিটা স্থানটি দেখতে টিলার মত। কিংবদন্তী এই যে- কোন এক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী দরবেশ নিশিকালে এপথে ভ্রমণের সময় এখানে এসে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। নির্মাণ কাজে নিয়োজিতদের জন্য ভাতরাধা যখন শেষ নির্মাণ কাজ তখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যে ভোরের নকীব পাখ-পাখালীর কূঞ্জনে মুখরিত হয়ে ওঠে রাতের নিস্তব্ধতা। নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে দরবেশ চলে যান। পথিমধ্যে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারিতে যেয়ে রাত শেষ হয়নি দেখে সেখানে মসজিদ নির্মাণ শুরু করে ফজরের নামাজ আদায় করেন। রাত শেষে লোকজন দেখতে পায় অসমাপ্ত মসজিদ, রান্না করা ভাত আর ভাতের ফ্যান গড়িয়ে পাশে পুকুরের মত তৈরী হয়েছে। সেই থেকে উঁচু টিলার নাম হয় ভাতের ভিটা। যেখানে ফ্যান গড়িয়ে পুকুরের মত হয়েছে তার নাম দেয়া হয় ফ্যানঘালী। সরকারীভাবে পুরাকীর্তি সংরক্ষণের কাযর্ক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ এখানে খননকার্য শুরু করে। খননকার্যের ফলে এখানে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের স্থাপত্যশৈলীর অনুরূপ অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রায়তঃ বহুকক্ষ বিশিষ্ট ইমারতের অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যায়। ভাতের ভিটা এর ধ্বংসাবশেষ দেখে এবং ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক তথ্য প্রমাণাদি বিশ্লেষণে অনুমান করা হয় এখানে মোর্য্য সাম্রাজ্যের সময়কাল খ্রীঃ পূঃ তৃতীয় শতাব্দী থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়কাল পযর্ন্ত এই কাল পরিসরে এখানে একটি বৌদ্ধ সংঘ্যারাম প্রতিষ্ঠিত ছিল।

যাতায়াত: মাগুরা জেলা শহর হতে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে মঘি ইউনিয়নে ফটকী নদীর তীরে টিলা গ্রাম অবস্থিত। যশোর-মাগুরা সড়কে বাস ও ভ্যানযোগ যাতায়াত করা যায়।

  শ্রীপুর জমিদার বাড়ী

শ্রীপুর জমিদার বাড়ী শ্রীপুর উপজেলা সদরের ১ কি.মি. এর মধ্যে পাল রাজার রাজপ্রাসাদের ধ্বংশাবশেষ রয়েছে। এখানে জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন সারদারঞ্জন পাল চৌধুরী। শ্রীপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জমিদারীর আওতাধীন এলাকা ছিল। শ্রীপুর জমিদার বাড়ির বিশাল প্রাসাদতুল্য মন কাড়ার মত দৃষ্টি নন্দন বাড়ি এখন বাড়ির প্রবেশদ্বার তথা সিংহদ্বার ভগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে। জমিদারীর ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় নবাব আলীবর্দ্দি খার নিকট হতে এ জমিদারী খরিদ করা হয়। বৈবাহিক সূত্রে বাংলার বারো ভূইয়ার অন্যতম যশোরের মহারাজা প্রতাপাদিত্যের সংগে সারদারঞ্জন পাল চৌধুরীর সম্পর্ক ছিল। মহারাজা প্রতাপাদিত্যের ছেলে উদয়াদিত্যের সংগে জমিদার সারদারঞ্জন পাল চৌধুরীর মেয়ে বিভাপাল চৌধুরীর বিবাহ হয়েছিল। এ সূত্র ধরে মহারাজ প্রতাপাদিত্য শ্রীপুরে এসেছিলেন। আরো জনশ্রুতি আছে এ বিভাপাল চৌধুরীকে কেন্দ্র করে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৌঠাকুরানীর হাট' উপন্যাস রচনা করেন। বর্তমানে বাড়ীর প্রবেশদ্বার তথা সিংহদ্বার ভগ্ন অবস্থায় বিরাজমান।

যাতায়াত: মাগুরা সদর হতে উত্তরে ১৫ কি.মি. উত্তরে শ্রীপুর উপজেলা সদরে জমিদার বাড়ী অবস্থিত। মাগুরা হতে বাসযোগে শ্রীপুর স্ট্যান্ডে নেমে ১ কি.মি. শ্রীপুর-সাচিলাপুর রাস্তায় গেলে বামপার্শ্বে জমিদার বাড়ী।

হজরত পীর মোকাররম আলী শাহ (র:) এর দরগাহ

মাগুরা শহর হতে প্রায় সাত কিলোমিটার পশ্চিমে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উত্তর পাশে ইছাখাদা গ্রামে হজরত পীর মোকররম শাহ (র:) দরগাহ। দরগাহের উত্তর পাশ দিয়ে পূর্ববাহিনী নবগঙ্গা নদী। নদী পাড়ের বৃক্ষ লতাদির পত্রপল্লবে স্নিগ্ধ ছায়াচ্ছন্ন মৃত্তিকার মমতাময়ী বুকে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন বিখ্যাত ইসলাম ধর্ম প্রচারক ও মহান আধ্যাত্মিক সাধক হজরত পীর মোকাররম আলী শাহ (র:)। বিখ্যাত ধর্ম প্রচারক ও মুসলিম শাসক খান জাহান আলী (র:) বারজন শিষ্যসহ যশোরের বারবাজারে উপনীত হন আনুমানিক ১৪০০ খ্রি: এবং এখান থেকেই তাঁর কাযর্ক্ষেত্রের দ্বার উদ্ঘাটিত হয়। পরবর্তীতে তিনি যশোর হয়ে বাগেরহাট গমণ করেন। সেখানে তাঁর ধর্মপ্রচার ও কর্মকান্ডের ব্যাপ্তির সাথে শিষ্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬০ জনে উন্নীত হয়। সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ এর শাসনামলে (১৪৪২-১৪৬০ খ্রি:) তাঁর প্রধান প্রধান কীর্তি স্থাপিত হয়। হজরত খান জাহান আলী (র:) এর অন্যতম শিষ্য হজরত পীর মোকররম শাহ (র:) সম্ভবত: বারবাজার হতে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ইছাখাদা গ্রামে এসে ইসলাম প্রচারে ব্রতী হন। তিনি এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের ভগ্নাবশেষ মাত্র এখন বিদ্যমান আছে। ঐ সময় নির্মিত ঈদগাহের মেহরাব এখনও বিদ্যমান। তিনি এখানে দুটি পুকুর খনন করেন যা কালের পরিক্রমায় এখন অনেকাংশে ভরাট হয়ে যায়। সম্প্রতি এই পুকুর দুটি খননসহ মাজারের পবিত্রতার প্রতি লক্ষ্য রেখে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। মহান সাধক হজরত পীর মোকররম আলী শাহ (র:) এর অনেক অলৌকিক ক্ষমতার কথা জনশ্রুতি থেকে জানা যায়। প্রতি বছর ৩রা মাঘ এখানে পবিত্র ইসালে সওয়াব অনুষ্ঠিত হয়। এখানে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে আলীম শ্রেণী পযর্ন্ত এখানে লেখা পড়ার সুযোগ রয়েছে। হজরত পীর মোকাররম আলী শাহ্ (র:) দরগাহ মাগুরা সদর উপজেলার এক ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যিক মহিমামন্ডিত দর্শনীয় স্থান। পত্রপল্লবের স্নিগ্ধতায় নবগঙ্গার তীর ঘেঁষে এই দরগাহ শরীফের শান্ত নির্জনতা মরমীভাবনায় ভাবুকচিত্তকে ভরিয়ে তোলে। ভক্ত হৃদয়ের আশা আকাঙ্খাকে ধারণ করে এই দরগাহ মাগুরার ঐতিহ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

যাতায়াতঃ মাগুরা জেলা শহর হতে ০৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মাগুরা-ঝিনাইদহ বিশ্বরোডে ইছাখাদার ডান দিকে নবগঙ্গা নদীর তিরে হজরত পীর মোকাররম আলী শাহ (র:) এর দরগাহ অবস্থিত। বাস, টেম্পু ও ভ্যানযোগ যাতায়াত করা যায়।

শত্রুজিৎপুর মদনমোহন মন্দির

মাগুরা জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত সত্রাজিৎপুর বা শত্রুজিৎপুর ইউনিয়ন মাগুরা জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে যা স্বচক্ষে না দেখলে অনুমান করা কঠিন। ১২ ভূঁইয়ার অন্যতম ভূষণা অধিপতি মুকুন্দ রায়ের পুত্র রাজা সত্রাজিৎ রায় ১৬৩৬ খ্রীষ্টাব্দে শত্রুজিৎপুর এসে এখানে রাজধানী স্থাপন করে রাজ্য পরিচালনা করতে থাকেন। মোগল শাসক কর্তৃক রাজা সত্রাজিৎ রায় প্রাণদন্ডে দন্ডিত হন। রাজা সত্রাজিৎ রায় এর প্রাণদন্ডের পর তাঁর বংশের রাজ গৌরব ও স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়। রাজা সত্রাজিৎ রায় এর উত্তরাধীকারী কৃষ্ণ প্রসাদ বরাটের গোষ্ঠীপতি রাম হরি গুহ রায়ের কন্যা স্বরসতী দেবীকে বিবাহ করেন এবং উক্ত রামহরির পুত্র রঘুদেব গুহকে তরফ কুজবাড়িয়ার অধীন জয়পুর গ্রাম মহাত্রাণ দান করিয়া তাঁহার বাসস্থান নির্মাণ করিয়া দেন। রঘুদেব প্রায়ই সত্রাজিৎপুরের বাড়ীতে বাস করিতেন। এবং তাঁহারই যত্নে কৃষ্ণ প্রসাদ সত্রাজিৎপুরের মদন মোহন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করিয়া তাঁহার জন্য একটি কারুকার্য- খচিত সুন্দর মন্দির নির্মাণ করেন, ঐ মন্দিরটি এখনও সত্রাজিৎপুরের ঐতিহ্যের ন্বাক্ষ্য বহন করছে। ১৬৯৮ খ্রীষ্টাব্দে এই মন্দির গঠিত হয়।

যাতায়াত: মাগুরা জেলা শহর হতে মাগুরা-নড়াইল সড়কে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পূর্ব দক্ষিণ কোণে শত্রুজিৎপুর গ্রামে নবগঙ্গা নদীর তীরে মদনমোহন মন্দিরটি অবস্থিত। বাস, টেম্পু ও ভ্যানযোগ যাতায়াত করা যায়।

নেংটা বাবার আশ্রম ও মন্দির

মাগুরা শহরের পূর্বাংশে নবগঙ্গা নদীর তীরে সাতদোহা শ্মশান, ন্যাংটা বাবার আশ্রম ও মন্দির নদীর তীরের গভীর জঙ্গলাকীর্ণ শ্মশান ভূমির প্রান্তবর্তী লতাগুল্মতলে একদিন পরিধেয়বিহীন এক সাধক পুরুষের আবির্ভাব লক্ষ্য করে স্থানীয় অধিবাসীগণ এবং বিস্মিত ও চমৎকৃত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় অধিবাসীগণ জানতে পারে তিনি গাংনালিয়া শ্মশান থেকে এখানে এসেছেন। ক্রমশঃ এই সাধক পুরুষের নানা অলৌকিক ক্ষমতা ও আধ্যাত্বিক গুণাবলীর পরিচয় চর্তুদিকে ব্যাপ্ত ও প্রতারিত হওয়ার সাথে সাথে ভক্ত সম্প্রদায়ের আগমণ ঘটতে থাকে এখানে। বাকসিদ্ধ মহাপুরুষ হিসেবে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় জনমনে পরম শ্রদ্ধার আসনে অভিষিক্ত আজীবন অকৃতদার এই সাধক পুরুষের নাম জীতেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। নড়াইল জেলার ভবানীপুর গ্রামে ১২৯৫ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম- বেনীমাধব চক্রবর্তী, মাতা- পূর্ণ সুন্দরী দেবী। অনেকেই তাঁর জন্মস্থান যশোর জেলার অভয়নগর থানার কথা বলে থাকেন, যা সঠিক নয়। গৌরবর্ণ শ্মশ্রুগুস্ফবিহীন সোনালী চুলের সুদর্শন এই সাধক পুরুষ বিনা পরিধেয় জীবন কাটিয়েছেন। যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন তাদের অনেকে জানিয়েছেন তিনি ভাষায় কোন অভিব্যক্তি প্রকাশ করতেন না। তাঁর যা কিছু প্রকাশ তা আকার ইঙ্গিতে বুঝে নিতো ভক্ত সম্প্রদায়। জানা যায়, ফটিক চন্দ্র দাস নামক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ০.৮৬ একর জমি ন্যাংটা বাবার আশ্রমের জন্য দান করেন। সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন পার্বন উপলক্ষ্যে এখানে অগণিত ভক্তের নৃত্য সমাগম হয়। তারা পঞ্চবটি তরুমুল হতে ধূলিকনা সংগ্রহ করে পরম শ্রদ্ধাভরে আস্বাদন করেন বা মস্তকোপরি ধারণ করেন রোগ মুক্তি বা মনোবাসনা পুরণের আশায়। ন্যাংটা বাবার স্মৃতিধন্য সাতদোহা শ্মশান আশ্রমে নিত্য পূর্জাচনা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যাহ্নে অন্নভোগ আর সন্ধ্যারাত্রে ফলাহার নিত্য আয়োজন হয়। পঞ্চবটীর স্নিন্ধ শ্যামল ছায়ায় ঢাকা নবগঙ্গা নদীর তীরের এই আশ্রমের সৌম্যশান্ত নির্জনতা আর স্নিগ্ধতা মানব চিত্তকে ক্ষনিকের জন্য হলেও প্রাত্যহিকতার টানাপোড়েন আর মোহবন্ধন থেকে মুক্তি দিতে পারে। এই মহান সাধক পুরুষ বাংলা ১৩৭০ সালের ৩০ শে বৈশাখ মঙ্গলবার আসনে উপবিষ্ট অবস্থায় অগণিত ভক্তকুলকে অশ্রু সাগরে ভাসিয়ে দেহ ত্যাগ করেন। এখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। বর্তমানে এই মন্দির উল্লেখযোগ্যভাবে দর্শণীয় হয়ে উঠেছে। সরকারী অনুদানে ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে মন্দির পাকা গৃহে পরিনত হয়েছে এবং এখানে একটি নাট মন্দির তৈরী হয়েছে। এছাড়াও অনেক শিষ্যসহ ন্যাংটা বাবার সমাধি পাকাকরণ করা হয়েছে এবং শ্মশানের প্রাচীণ বটবৃক্ষ ও  আম্রকুঞ্জ আজো বিদ্যমান। মন্দিরে রাধা গোবিন্দের নিত্যভোগ হয়। আষাঢ় মানে রথযাত্রা হয় এবং রথকে ঘিরে বিরাট মেলা বসে।

যাতায়াত: মাগুরা জেলা শহর হতে প্রায় ০১ কিলোমিটার পূর্বদিকে নবগঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। রিক্সা ও ভ্যানযোগ যাতায়াত করা যায়।

তথ্যসূত্র : ট্যুরিস্ট গাইড 24