Golden Bangladesh
ঝালকাঠি জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

ঝালকাঠি জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

রাজাপুর সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি

রাজাপুর উপজেলার একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম সাতুরিয়া। রাজাপুর- পিরোজপুর মহাসড়কের বেকুটিয়া ফেরিঘাটের কিছু পূর্বে সাতুরিয়া গ্রামের জমিদার বাড়ির মাতুলালয়ে বাংলার বাঘের জন্ম। প্রায় ৩ শত বছর আগে সাতুরিয়ায় জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। এছাড়া দেখা যায় বিশাল এলাকা প্রায় একশত একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়িতে অনেকগুলো পুকুর, ফুলের বাগান, তিনটি পুরনো কারুকার্য খচিত মোঘল আদলের তৈরি দালান, প্রধান ফটক বা সদর দরজা। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি বরিশালের চাখার হলেও, শৈশবের মধুর সময়গুলো মায়ের সাথে মামাবাড়ি সাতুরিয়ায় কেটেছে। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা হয়েছে জমিদার বাড়ির মক্তবে। সাঁতার কেটেছেন বাড়ির সান বাঁধান পুকুরের ঘাটে। শুধু শৈশব নয়, তার রাজনৈতিক জীবন এবং কর্মজীবনের বহু মূল্যবান সময় তিনি সাতুরিয়া জমিদার বাড়িতে কাটিয়েছেন।

কবি জীবনানন্দ দাশের মামা বাড়ি

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের স্বপ্নের ধানসিঁড়ি নদী। যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি রচনা করেন আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়ি নদীটির তীরে এই বাংলায়। তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ, মাতা কবি কুসুম কুমারী দাশ। কবির ডাক নাম মিল। তাঁর আদি নিবাস গওপাড়া, বিক্রমপুর কিন্তু তাঁর জন্মস্থান বরিশালের নতুন বাজার ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ধানসিঁড়ি নদীটি দক্ষিণ বাংলার বর্তমানে ঝালকাঠি জেলায় রাজাপুর থানায় অবস্থিত। ব্রিটিশ শাসিত বাংলায় এ নদীপথ দিয়ে বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-সাতুরিয়া -কাউখালী- পিরোজপুর-খুলনা- কলকাতা স্টীমার চলাচল করত । নদীর দুই তীরে ধান ক্ষেত এবং তার কাছেই নদীর তীরে অবস্থিত বামনকাঠী গ্রামে তাঁর মামা বাড়ি ছিল। কবি শৈশবে তাঁর বাবা মায়ের সাথে মামা বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। বরিশালে বাবা মার সাথে বসবাস করলেও মামা বাড়ি ছিল তার প্রিয় স্থান। এখানে তিনি ভ্রমন করতেন। উপভোগ করতেন ধানসিঁড়ি নদীর অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ী

রাজা কীর্তি নারায়ণের নাম অনুসারে কীর্তিপাশা। রামজীবণ সেন কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ীর প্রতিষ্ঠাতা। এ বংশের সন্তান রোহিনী রায় চৌধুরী ও তপন রায় চৌধুরী দুটি উজ্জবল নক্ষত্র। গাবখান নদীর তীরে স্টীমার ঘাট রোহিনী গঞ্জ রোহিনী রায় চৌধুরীর অবদান। সেই সাথে ইতিহাস গ্রন্থ বাকলা কীর্তিপাশায় আছে হাসপাতাল যা ঝালকাঠি থানা সদরে (জেলা সদর) হাসপাতালের চেয়েও পুরাতন। সতিদাহ প্রথার চিহ্ন একটি সহমরন সমাধির চিহ্ন আছে এখনও। রোহিনী রায় চৌধুরীর সমাধিটি নতুনভাবে নির্মান করা হয়েছে। পারিবারিক শিব মন্দির এবং একটি শিব মূর্তি আছে এখনো। ঝালকাঠি সদর থেকে ৪/৫ কিঃমিঃ উত্তর পশ্চিম দিকে অবন্থিত কীর্তিপাশা গ্রাম।

গালুয়া পাঁকা মসজিদ

রাজাপুর উপজেলার বিখ্যাত এ মসজিদটি ভান্ডারিয়া -রাজাপুর মহাসড়কের গালুয়া বাজার থেকে এক কিঃমিঃ পূর্বদিকে দুর্গাপুর গ্রামে অবন্থিত। সরেজমিনে গিয়ে যে তথা পাওয়া গেছে তা হল- মাহমুদ জান আকন (মামুজী) নামক এক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ১১২২ সালে (বাংলা) এটি নির্মাণ করেন। মসজিদের কাছে পরিত্যক্ত একখন্ড শিলালিপি থেকে এর নির্মাণ সন উদ্ধার করা হয়। মাত্র ৭৫/৮০ বছর পূর্বেও মসজিদটি ঘন জঙ্গলে আবৃত ছিল। সে সময়ের পীর সাহেব জনাব মাহতাবউদ্দিনের সহযোগীতা, আন্তরিকতা ও নেতৃত্বে এটি সংঙ্কার করা হয়। কথিত আছে যখন মসজিদটির সংলগ্ল ঝোপ ঘন জঙ্গল সাফ করা হয় তখন বড় বড় বিষধর সাপ বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে হুজুর নির্দেশ দিলেন মসজিদটির চারদিকের একদিক খোলা রাখতে। দেখা গেল সাপগুলো খোলা দিক থেকে বেড়িয়ে গেল এবং মসজিদটিকে নামাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা হল। মসজিদটি অতি প্রাচীন হওয়ায় আস্তে আস্তে ভেঙ্গে পড়ছিল। তখন প্রতিবেশী জনৈক সমাজসেবী ধর্মপ্রাণ আলহাজ্জ আব্দুল কুদ্দস খানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অধিগ্রহণ করে গত ২০০৪ সালে। অতঃপর উক্ত বিভাগের নিজস্ব কারিগর দ্বারা পূর্বে অবিকল নকশায় পুনঃ নির্মাণ করা হয় ২০০৬ সালে। বর্তমানে এখানে জামাতের সাথে পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয় ।

পোনাবালিয়া মন্দির

শ্রী শ্রী ভৈরব এ্যম্বকেশরের শিব মন্দির এবং শ্রীশ্রী মৎ স্বামী অমলানন্দ তমাদূত এর আশ্রম ধারণের মহিমা নিয়ে সমুজ্জল পোনাবালিয়া ও স্যামরাইল। এ শিব মন্দিরের পিছনে আছে কিংবাদন্তী এবং পৌরণিক ইতিহাস। কবি মুকুন্দ দাসের ভাব শিষ্য পাগলা কানাই এর সংগীত সাধনার স্থান সাজন তলায় আজও কান পাতলে মানবতাবাদী সঙ্গীতের সুর শোনা যাবে। ঝালকাঠি পৌরসভার সামনে খেয়াঘাট থেকে নদী পার হয়ে ৭/৮ কিঃমিঃ গেলেই শ্যামরাইন এবং পোনাবালিয়া গ্রাম।

সিদ্ধকাঠি জমিদার বাড়ী

সিদ্ধকাঠি রায় চৌধুরীদের বাড়ি। কবি কামিনী রায়ের শশুর বাড়ী। মূল ভবনটি নাই। রংমহলসহ কয়েকটি ভবনের অবশেষ আছে। ঘাট বাধানো পুকুর কালের সাক্ষী হয়ে আছে এখনো। সিদ্ধকাঠী স্কুলটি (১৮৯০) জমিদার জগৎপ্রসন্ন রায় চৌধুরী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়ে এখনো স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। এ জমিদার বাড়িটি নলছিটি সদর থেকে ৩/৪ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত সিদ্ধকাঠি গ্রামে অবস্থিত।

কুলকাঠি (শহীদিয়া)

ব্রিটিশ শাসনের সবচেয়ে মর্মান্তিক স্মৃতি কুলকাঠি। স্থানীয় হিন্দুদের ষড়যন্ত্রে ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট ই এন ব্রান্ডি এর নির্দেশে গুর্খা সৈন্যরা মুসলমানদের উপর গুলিবর্ষণ করলে ১৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। নিহত উনিশ জনের কবর আছে এখানে। নলছিটি থানার কুলকাঠি গ্রামে অবস্থিত। কলেজ খেয়াঘাট পার হয়ে ৩/৪ কিঃমিঃ এ গুলেই কুলকাঠি গ্রাম।

কামিনী রায় /যামিনী সেনের বাড়ি

স্বনামধন্য কবি কামিনী রায়ের পৈত্রিক বাড়ি বাসন্ডা গ্রামে। পৈত্রিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ আছে। কামিনী রায় প্রথম মহিলা স্নাতক। কামিনী রায়ের বোন যামিনী সেন প্রথম মহিলা ডাক্তার।

তথ্যসূত্র : http://touristguide24.com